পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব ও বিশুদ্ধতা নিয়ে মুমিনরা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। তবে সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেক সময় নখ বা চুল কাটার মতো স্বাভাবিক কাজকেও অনেকে সওয়াব কমানোর কারণ মনে করেন। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় শরীরের নখ, চুল বা অবাঞ্ছিত পশম কাটলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না এবং এতে সওয়াবও কমে না।
নখ-চুল কাটা ও রোজার সম্পর্ক
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, রোজা ভঙ্গ হয় মূলত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে। শরীরের উপরিভাগের পশম বা নখ কাটার সঙ্গে রোজা ভঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্ভরযোগ্য ফিকহ শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোজা অবস্থায় নখ কাটা বা চুল ছাঁটা সম্পূর্ণ বৈধ। এটি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ, যা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।
সুন্নাহ ও রোজার পূর্ণতা
দাড়ি রাখা রাসুল (স.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। অধিকাংশ আলেমের মতে এটি ওয়াজিব বা অপরিহার্য সুন্নাহ। কেউ যদি রোজা রেখে দাড়ি শেভ করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে না। তবে ইসলামি স্কলারদের মতে, এতে রমজানের রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পূর্ণতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যেহেতু রোজার লক্ষ্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পূর্ণ আনুগত্য করা, তাই সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ পরিহার করাই মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়।
বিজ্ঞাপন
আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য রক্ষায় বর্জনীয় কাজ
আলেমদের মতে, নখ বা চুল কাটলে সওয়াব না কমলেও কিছু আচরণ রয়েছে যা রোজার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য ও সওয়াব কমিয়ে দিতে পারে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-
- মিথ্যা বলা, গিবত বা পরনিন্দা করা।
- বিনা কারণে সেহরি না খাওয়া বা দেরিতে ইফতার করা।
- অশ্লীল ছবি, নাটক বা ভিডিও দেখা।
- ইবাদত ছেড়ে কেনাকাটায় অতি ব্যস্ত থাকা।
- অযথা বিতর্ক বা ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া।
- রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত এবং অতিরিক্ত ভোজন ও অপচয় করা।
আরও পড়ুন: রোজা রেখে গড়গড়া ও নাকে পানি দেওয়ার বিধান
রমজান মাস মূলত আত্মশুদ্ধির মাস। ভ্রান্ত ধারণায় কান না দিয়ে শরীরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্পূর্ণ জায়েজ। তবে নখ-চুল কাটার চেয়েও বড় বিষয় হলো- জিহ্বা, চোখ এবং অন্তরকে যাবতীয় গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখা। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)
(ফতোয়ায়ে শামি: ৩/৩৯৫; ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/২০১; সহিহ বুখারি: ১৯০৩)

