পবিত্র রমজানে ‘ইতেকাফ’-এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল যা রাসুলুল্লাহ (স.) মদিনার জীবনে কখনো ছাড়েননি। অথচ অনেক মুসলমানের জীবনে এই আমলটি একবারও করা হয়ে ওঠে না। এই অবহেলিত সুন্নাহর মাধ্যমেই একজন মুমিন আধ্যাত্মিক উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মনোযোগের সংকট
বর্তমান সময়ের অস্থিরতা ও ডিজিটাল ব্যস্ততার প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের মনোযোগ অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত। ফেসবুকের রিলসের মতোই আমাদের ভাবনাগুলো ক্রমাগত দৌড়াতে থাকে। মনোযোগ দিয়ে কোনো লেখা পড়ার কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে ভাবার অবকাশ আমাদের হয় না। এ কারণে দুই রাকাত নামাজও পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খুব কম মানুষই পড়তে পারছি।’
আরও পড়ুন: নবীজির ইতেকাফ যেমন ছিল
অস্থিরতা কাটাতে ইতেকাফের ভূমিকা
শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, এই চরম অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেকে খুঁজে পেতে ইতেকাফ এক অনন্য মাধ্যম হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতেকাফ দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে মুক্ত করে একান্তভাবে মহান আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এটি মূলত নিজের গুনাহ, আখেরাত এবং মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীরভাবে উপলব্ধির এমন এক সুযোগ, যা জীবনে খুব কমই আসে।
প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মার পরিশুদ্ধি
সিয়াম ও ইতেকাফের তুলনা করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘সিয়াম যেমন আমাদের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়, ইতেকাফ তেমনি আমাদের আত্মাকে আল্লাহর ঘরে বেঁধে ফেলে আধ্যাত্মিক উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যায়। এটি রাসুল (স.)-এর এক জীবন্ত আদর্শ, যা রমজানের ইবাদতকে পূর্ণতা দান করে।’
আরও পড়ুন: ইতেকাফকারী যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
শেষ দশকের প্রস্তুতি
রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে ইবাদতটি রাসুল (স.) আজীবন গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন, সেটি আমাদের জীবনে অন্তত একবার হলেও করা উচিত। ইতেকাফের মাধ্যমেই একজন মুমিন দুনিয়াবি কোলাহল ছেড়ে আপন রবের একান্ত সান্নিধ্য অনুভব করতে পারেন।

