যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর ঘোষিত ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে অধিকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলমানদের প্রথম কিবলা মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবির নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। শনিবার (রমজানের ১১তম দিন) রাত থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মুসল্লিদের জন্য মসজিদের প্রবেশপথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ ও ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব শায়খ একরিমা সাবরি।
শূন্য আল-আকসা: ইবাদতে বাধা
ইসলামী ওয়াকফ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে সাধারণ মুসল্লিদের কাউকেই মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধু মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনাইনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং হাতেগোনা কয়েকজন ওয়াকফ কর্মী এশার নামাজ আদায় করার সুযোগ পেয়েছেন। জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, চলতি রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন লাখো মুসল্লি অংশ নিলেও এখন আল-আকসা কার্যত মুসল্লিশূন্য।
আরও পড়ুন: আল আকসা মসজিদের খতিবের বিচার শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল
খতিব একরিমা সাবরির প্রতিক্রিয়া
জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ একরিমা সাবরি বলেন, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মসজিদ বন্ধ রাখার কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে দখলদার কর্তৃপক্ষ মসজিদের ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়।’ তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বলে শনিবার জোহরের আজানের আগে থেকেই সব মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশের এই পদক্ষেপ ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ও রকেটের ধ্বংসাবশেষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং জরুরি খাত ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ রেখে কড়া জরুরি অবস্থা জারি করে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে পুরো রমজান জুড়েই আল-আকসা বন্ধ রাখা হতে পারে। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও গভর্নরেট জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় জেরুজালেমের সিলওয়ানের আইন আল-লওজা, আল-ইসাওইয়া ও পুরনো শহর এলাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। একই অজুহাতে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদও বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাদিসের বর্ণনায় যে দলটি ফিলিস্তিন জয় করবে
সার্বভৌমত্বের লড়াই ও ২০২০ সালের স্মৃতি
রমজানের এই ভরা মৌসুমে মুসল্লিশূন্য আল-আকসার দৃশ্য অনেকের মনে ২০২০ সালের করোনা মহামারির স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তবে জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস মনে করেন, এটি নিছক নিরাপত্তা নয়, বরং আল-আকসাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মসজিদটির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এই চেষ্টাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয় এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে এর মোকাবিলা করতে হবে।
উদ্বেগ
প্রতি বছর রমজানে যে মসজিদটি লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত থাকে, সেখানে আকস্মিক এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানে ইবাদতের ওপর এই নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, ওয়াফা

