বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সাহরি না খেয়ে শুধু নিয়ত করলে রোজা শুদ্ধ হবে কি?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সাহরি না খেয়ে শুধু নিয়ত করলে রোজা শুদ্ধ হবে কি?

পবিত্র রমজানে সাহরি খাওয়া অত্যন্ত বরকতময় ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। তবে কখনও কখনও অসাবধানতাবশত বা ঘুমের কারণে সাহরির সময় পার হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন- সাহরি না খেলে কি রোজা হবে? এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধান নিচে তুলে ধরা হলো।

সাহরি না খেয়ে রোজা হবে কি?

এর উত্তর হলো- হ্যাঁ, সাহরি না খেয়েও রোজা আদায় হয়ে যাবে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাহরি খাওয়া রোজার ‘ফরজ’ বা ‘শর্ত’ নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সুন্নাহ’। তাই কেউ যদি সাহরির সময় না পান বা অসুস্থতার কারণে খেতে না পারেন, তবে সাহরি ছাড়াই রোজা রাখতে পারবেন। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফতোয়ায়ে শামি: ২/৩৯৫; বাদায়েউস সানায়ে: ২/১৪৬)

তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহরি বর্জন করা উচিত নয়। কারণ সাহরির মধ্যে বিশেষ আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বরকত নিহিত রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাতে রোজার নিয়ত করতে ভুলে গেলে করণীয়

রোজার নিয়ত কীভাবে করবেন?

রোজার জন্য ‘নিয়ত’ বা সংকল্প করা আবশ্যক। তবে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, বরং অন্তরের দৃঢ় সংকল্পই যথেষ্ট। আরবিতে নিয়ত করাও বাধ্যতামূলক নয়। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/৪৫২; আল-জাওহারুতুন নাইয়্যিরাহ: ১/১৭৬)
সাহরি খাওয়া হোক বা না হোক, সুবহে সাদিকের আগেই রোজার নিয়ত করে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম। তবে কেউ যদি সাহরি মিস করেন, তাহলে দিনে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে। শর্ত হলো- সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়তের পূর্ব পর্যন্ত রোজার পরিপন্থী কোনো কাজ না করতে হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৫, রদ্দুল মুখতার: ৩/৩৪১)

আরও পড়ুন: রোজার নিয়ত করবেন যেভাবে

সাহরির গুরুত্ব ও ফজিলত

যদিও সাহরি ছাড়া রোজা হয়ে যায়, তবুও রাসুলুল্লাহ (স.) সাহরি খাওয়ার প্রতি বিশেষভাবে তাকিদ দিয়েছেন। হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এসেছে—

বরকতময় খাবার: মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ১৯২৩)

পার্থক্যকারী আমল: তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাবদের (ইহুদি-খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।’ (সহিহ মুসলিম: ১০৯৬)

রহমত ও দোয়া: সাহরি গ্রহণকারীদের ওপর আল্লাহ তাআলা রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। (মুসনাদে আহমদ: ১১১০১)

এমনকি খাওয়ার রুচি না থাকলেও সামান্য পানি পান করে হলেও সাহরির সুন্নাহ আদায় করা উচিত। হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি খাওয়া বরকত, তাই তোমরা তা ত্যাগ করো না; যদিও তা এক ঢোক পানি পান করার মাধ্যমেও হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ১১০৮৬)

সাহরি খাওয়া সুন্নাহ এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তাই সুযোগ-সামর্থ্য থাকলে এই বরকতময় আমলটি বর্জন করা ঠিক নয়। তবে কোনো সংগত কারণে সাহরি খাওয়া সম্ভব না হলেও কেবল নিয়ত করে রোজা রাখলে তা সহিহভাবে আদায় হবে। সাহরি খেতে পারেননি বলে রোজা ছেড়ে দেওয়া বা ভেঙে ফেলা শরিয়তসম্মত নয়।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর