রমজানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইন্সল্যাব বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আহমদুল্লাহ ঢাকা মেইলকে বলেন, বরকতময় রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। বছরের বারো মাসের মধ্যে এই মাসই সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতসমৃদ্ধ। এ মাসে রয়েছে এমন এক মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। রমজানের প্রতিটি ইবাদতে রয়েছে বহুগুণ সওয়াবের প্রতিশ্রুতি।
তিনি বলেন, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি রমজানে একটি নফল ইবাদত আদায় করে, সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে; আর যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করে, সে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায়ের সওয়াব পায় (ইবনে খুযাইমা-১৮৮৭)।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরো বলেন, রমজানের সর্বশ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ হলো এ মাসেই মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘রমজান মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পায়, সে যেন তাতে রোজা রাখে’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। অর্থাৎ রমজানের মর্যাদা কোরআনের কারণেই।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে লাইলাতুল কদরের শ্রেষ্ঠত্বও কোরআনের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে নাজিল করেছি কদরের রাতে। আর তুমি কি জানো কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ’ (সুরা আল-কদর, আয়াত: ১-৩)। এই আয়াতসমূহ প্রমাণ করে, কোরআনের অবতারণাই রমজানকে করেছে অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা কোরআনকে মানুষের জন্য উপদেশ, অন্তরের রোগের চিকিৎসা, রহমত ও পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাই রমজান কেবল রোজার মাস নয়; এটি কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়ন ও গভীর করার মাস। নিয়মিত ও শুদ্ধ তাজবিদে কোরআন তিলাওয়াত অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, পরিবারে বরকত আনে এবং জীবনে প্রশান্তি জাগ্রত করে। বিশেষ করে ফজরের পর তিলাওয়াত অধিক কল্যাণময়।
কেবল তিলাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; কোরআনের অর্থ ও তাফসির অনুধাবন করাও জরুরি। আয়াতের ব্যাখ্যা জানলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনের নানা সমস্যার সমাধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি কিছু সূরা বা আয়াত মুখস্থ রাখলে তা কঠিন সময়ে অন্তরে সাহস ও স্থিরতা জোগায়। নফল নামাজে মুখস্থ আয়াত তিলাওয়াত আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
কোরআন মনোযোগ দিয়ে শোনা হৃদয়কে কোমল করে এবং আল্লাহর স্মরণ জোরদার করে। মসজিদে, যাত্রাপথে বা অবসরে কোরআন শ্রবণ আত্মিক পরিশুদ্ধিতে সহায়ক। তবে কোরআনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল পাঠ বা শ্রবণ নয়; বরং জীবন পরিচালনায় তার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। লেনদেন, পারিবারিক দায়িত্ব, ন্যায়-অন্যায়ের সিদ্ধান্ত, দান-সদকা ও নৈতিক আচরণ প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ করাই একজন মুমিনের কর্তব্য। জেনে-শুনে আমল না করলে কিয়ামতের দিন কোরআনই সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে।
বিজ্ঞাপন
কোরআন শিক্ষা দেওয়া ও শেখার মধ্যেও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। যারা কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়, তারা আল্লাহর কাছে উত্তম বলে বিবেচিত। ছোট পরিসরে পাঠচক্র, আয়াতের অর্থ আলোচনা কিংবা শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদান সবই কোরআনের খেদমতের অন্তর্ভুক্ত। এভাবে যারা নিয়মিত কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তারা ‘আহলুল কোরআন’ হিসেবে পরস্পরের মধ্যে ঈমানি বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী হন।
অতএব বলা যায়, কোরআন নাজিলের কারণেই রমজান মহিমান্বিত। আমাদের জীবন হোক কোরআনময়, আমাদের চিন্তা ও কর্ম হোক কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত। তিলাওয়াত ও আমলের সমন্বয়েই মিলবে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা। আল্লাহ আমাদের সে তাওফিক দান করুন।
এম/এফএ

