বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাদরাসার কোন খাতে জাকাত দেওয়া যাবে, কোন খাতে নয়?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদ্রাসার কোন খাতে জাকাত দেওয়া যাবে, কোন খাতে নয়?

মাদরাসায় জাকাত দিতে চাইলে আগে জানতে হবে- কোন খাতে দেওয়া শরিয়তসম্মত, আর কোন খাতে নয়। প্রতি বছর রমজানে অনেক সচ্ছল মুসলমান জাকাত প্রদানের জন্য মাদরাসাকে অগ্রাধিকার দিলেও সব ক্ষেত্রে জাকাত আদায় হয় না। ইসলামি শরিয়তের ‘তামলিক’ (ব্যক্তি মালিকানা) বিধানের ভিত্তিতেই মাদরাসার ব্যয়খাত দুই শ্রেণিতে নির্ধারিত হয়। কোন খাতে জাকাত দেওয়া যাবে এবং কোন খাতে দেওয়া জায়েজ নয়- তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

মূলনীতি: ‘তামলিক’ বা ব্যক্তি মালিকানা

জাকাত আদায়ের অপরিহার্য শর্ত হলো ‘তামলিক’ বা কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে সম্পদের মালিক বানিয়ে দেওয়া। যেহেতু মাদরাসা একটি প্রতিষ্ঠান বা সত্তা, কোনো ব্যক্তি নয়, তাই সরাসরি প্রতিষ্ঠানকে জাকাতের মালিক বানানো যায় না। এই মূলনীতির আলোকেই মাদরাসার ব্যয়খাতগুলো চিহ্নিত করা হয়।

যেসব খাতে জাকাত দেওয়া যাবে

মাদরাসার এতিম, অসহায় ও দরিদ্র ছাত্রদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে জাকাত দেওয়া বৈধ।
লিল্লাহ ফান্ড বা গরিব তহবিল: মাদরাসাগুলোতে দরিদ্র ও এতিম ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত ‘লিল্লাহ ফান্ড’-এ জাকাত দেওয়া যাবে।
ছাত্রদের মৌলিক ব্যয়: অভাবী ছাত্রদের খাবার, পোশাক, কিতাব (বই) ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে জাকাতের টাকা ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ: মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মূলত গরিব ছাত্রদের পক্ষ থেকে ‘উকিল’ বা প্রতিনিধি হিসেবে জাকাত গ্রহণ করে। ছাত্রদের পেছনে এই অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে তাদের পরোক্ষ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জাকাতদাতার দায়ভার মুক্ত হয়।

আরও পড়ুন: জাকাত যে কারণে ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়া জরুরি


বিজ্ঞাপন


যেসব খাতে জাকাত দেওয়া যাবে না

মাদরাসার অবকাঠামো বা প্রশাসনিক কোনো কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়। যেমন-
অবকাঠামো নির্মাণ: মাদরাসার জমি ক্রয়, শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ছাত্রাবাস বা ভবন তৈরিতে জাকাতের টাকা ব্যবহার করা যাবে না।
প্রশাসনিক ও বেতন: শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, বোনাস বা পারিশ্রমিক হিসেবে জাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ নয়।
আসবাব ও ইউটিলিটি ব্যয়: মাদরাসার আসবাবপত্র (এসি, ফ্যান, বেঞ্চ) ক্রয় কিংবা বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না।

সতর্কতা

যেহেতু অবকাঠামো বা বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মালিক বানানো হয় না, তাই এসব খাতে জাকাত ব্যয় করলে দাতার জাকাত আদায় হবে না। মাদরাসার এসব প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে হবে মুসলমানদের সাধারণ অনুদান বা নফল সদকার অর্থ দিয়ে।

তাই জাকাতদাতার উচিত সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় জাকাত ও সাধারণ অনুদানের তহবিল পৃথকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কি না- তা নিশ্চিত হওয়া। সঠিক খাতে জাকাত প্রদানের মাধ্যমেই সম্পদ পবিত্র হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হয়।

(আদদুররুল মুখতার মাআ রদ্দুল মুহতার: ৩/২৯১; বাহরুর রায়েক: ২/৪৩৭; হিন্দিয়া: ১/১৮৭; তাবয়িনুল হাকায়েক: ২/১২৪; বাদায়ে: ২/১৪২; আহকামুল কুরআন জাস্সাস: ৩/১২৮; রদ্দুল মুহতার: ২/৩৪৪)

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর