বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

রহমতের দশক শেষের পথে: এই আমলগুলো করছেন তো?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

রহমতের দশক শেষের পথে: এই আমলগুলো করছেন তো?

রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মহিমান্বিত সওগাত নিয়ে আগত পবিত্র রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের দশক এখন শেষের পথে। অবারিত পুণ্য ও মহান আল্লাহর বিশেষ করুণাধারায় নিজেকে সিক্ত করার এই মূল্যবান সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রোজাদারের সামনে তাই বড় প্রশ্ন- আমরা কি এই দিনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত আমলগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হতে পেরেছি?

রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণকাল। এ মাসেই নাজিল হয়েছে কোরআনুল কারিম- মানবজাতির হেদায়াতের মহাগ্রন্থ। তাই রহমতের এই দশকের বিদায়লগ্নে প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজ নিজ আমলনামা পর্যালোচনা করা এবং কোনো ঘাটতি থাকলে তা পূরণে সচেষ্ট হওয়া।


বিজ্ঞাপন


যে আমলগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রয়োজন

১. বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা

রহমতের দশকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত না থাকলেও আল্লাহর রহমত কামনা করা এ সময়ের মূল চেতনা। পবিত্র কোরআনের এই অর্থবহ দোয়াটি এ সময় বেশি বেশি পাঠ করা যেতে পারে- ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন’ (হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু)।

আরও পড়ুন: রমজানের বিশেষ ২১ আমল 


বিজ্ঞাপন


২. তাওবা ও ইস্তেগফার

রহমত লাভের অন্যতম শর্ত হলো আন্তরিক তাওবা। নিজের অতীতের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেন।

৩. তাহাজ্জুদ ও নিভৃত প্রার্থনা

রমজানের রাতগুলো ইবাদতের জন্য বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে সাহরির আগের সময়টুকু দোয়া কবুলের উত্তম মুহূর্ত। তাহাজ্জুদ নামাজ ও একান্ত মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

৪. কোরআন তেলাওয়াত ও অনুধাবন

রমজান কোরআনের মাস। নিয়মিত তেলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থ ও ব্যাখ্যা অনুধাবনের চেষ্টা করলে ঈমান দৃঢ় হয় এবং অন্তরে রহমতের প্রশান্তি নেমে আসে। যারা অন্তত একবার কোরআন খতমের নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য এই দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: রমজানের জন্য বাছাইকৃত ১১ জিকির 

৫. দান-সদকা ও সহানুভূতি

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) রমজানে অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ইফতার করানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।

৬. আখলাকের উৎকর্ষ সাধন

রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; বরং এটি চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ। গিবত, মিথ্যা, অনর্থক বিতর্ক ও অশালীন আচরণ থেকে বিরত থেকে নম্রতা ও ধৈর্য ধারণ করাই সিয়ামের প্রকৃত দাবি।

সময়ের প্রবাহে রহমতের দিনগুলো দ্রুত বিদায় নিচ্ছে। তবে এখনো যে সময়টুকু বাকি আছে, তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। উদাসীনতা পরিহার করে ইবাদত, জিকির ও সৎকর্মে মনোযোগী হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহমতের দশকের অবশিষ্ট সময় সহিহ আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর