বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নারীর সঙ্গে করা যে অঙ্গীকার ইসলামে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নারীর সঙ্গে করা যে অঙ্গীকার ইসলামে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ

মুসলিম জীবনে পালনীয় বহু শর্ত ও অঙ্গীকারের মধ্যে একটি শর্তকে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এটি এমন এক অঙ্গীকার, যার ওপর ভর করে একটি হারাম সম্পর্ক হালাল হয় এবং দুজন মানুষের জীবন এক সূত্রে গেঁথে যায়। আল্লাহর রাসুল (স.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো বিয়ের সময় নারীর সঙ্গে করা পুরুষের অঙ্গীকার, যা পূরণ করা একজন মুমিনের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব।

শর্ত পূরণের গুরুত্ব: নববি নির্দেশনা

হাদিস শরিফে বিবাহের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং পূরণ করার জন্য সর্বাধিক হকদার।
উকবা ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘শর্তাবলির মধ্যে যা পূরণ করার সর্বাধিক দাবি রাখে তা হলো সেই শর্ত, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের (লজ্জাস্থানকে) হালাল করেছ।’ (সহিহ বুখারি: ২৭২১)

হাদিসের তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (স.) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, জীবনের আর দশটা সাধারণ চুক্তির শর্তের চেয়ে বিবাহের শর্ত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। এর কারণ হলো- এই শর্তগুলোর স্বীকৃতির মাধ্যমেই একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করার অনুমতি পায়, যা আগে তার জন্য হারাম ছিল।
এই শর্তগুলো হলো সেসব বৈধ দাবি বা প্রতিশ্রুতি, যা বিয়ের সময় স্ত্রী তার স্বামীর কাছে পেশ করে এবং স্বামী তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করে। যেমন: মোহরানার পরিমাণ, স্ত্রীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি, পৃথক থাকার ব্যবস্থা অথবা এমন যেকোনো বৈধ বিষয় যা শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

আরও পড়ুন: বিয়ে করার ১৫টি অবাক করা উপকার: কোরআন-হাদিসের আলোকে


বিজ্ঞাপন


হাদিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসটি আমাদের কয়েকটি যুগান্তকারী শিক্ষা দেয়। সেগুলো হলো-
১. শর্ত পূরণ করা ওয়াজিব (আবশ্যক): বিবাহের সময় দেওয়া বৈধ শর্তাবলি পূরণ করা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য ওয়াজিব। এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। যে ব্যক্তি এই শর্ত ভঙ্গ করে, সে একটি পবিত্র অঙ্গীকার ভঙ্গের দায়ে দায়ী হবে। তবে এমন কোনো শর্ত আরোপ বা পূরণ করা যাবে না, যা হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করে দেয়।
২. স্ত্রীর মর্যাদা ও অধিকারের স্বীকৃতি: ইসলাম স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদাকে কতটা উচ্চে স্থান দিয়েছে, এই হাদিসটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ। স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা বৈধ শর্তকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম নারীর সম্মান ও তার চাওয়া-পাওয়াকে সুরক্ষিত করেছে। এটি নিশ্চিত করে যে, বিয়ের মাধ্যমে নারী তার সব অধিকার হারিয়ে ফেলে না, বরং একটি সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা লাভ করে।
৩. প্রতিশ্রুতির পবিত্রতা: এই হাদিস মুমিনদেরকে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক ও যত্নবান হতে শেখায়। বিশেষ করে যে প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে একটি পরিবারের গোড়াপত্তন হয় এবং মানব জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সম্পর্ক হালাল হয়, তা পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও পড়ুন: দুইবার বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর কাছে থাকবে?

বিবাহের চুক্তি নিছক একটি কাগজের দলিল নয়, এটি আল্লাহর নামে করা এক পবিত্র অঙ্গীকার। এই চুক্তির শর্তগুলো, বিশেষ করে স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা শর্তগুলো রক্ষা করা একজন স্বামীর নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং ভালোবাসার ভিত্তি, যার উপর একটি সুখী ও প্রশান্তিময় দাম্পত্য জীবন দাঁড়িয়ে থাকে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই পবিত্র আমানত রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর