সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

 দোয়া কবুলের পথে প্রধান অন্তরায় ‘তাড়াহুড়া’

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

 দোয়া কবুলের পথে প্রধান অন্তরায় ‘তাড়াহুড়া’

দোয়া মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার এবং ইবাদতের প্রাণসত্তা। বান্দা যখন নিজের অক্ষমতা, অভাব ও প্রয়োজন নিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে হাত তোলে, তখন সে মূলত তার ঈমান ও আল্লাহর প্রতি অটল নির্ভরতার ঘোষণা দেয়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (স.) দোয়াকে ‘ইবাদতের মগজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে দোয়া করার সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেন- ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সুরা মুমিন: ৬০) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্ত (তাকদির বা ভাগ্য) পরিবর্তন করতে পারে না।’ (তিরমিজি: ২১৩৯)


বিজ্ঞাপন


তবে আমাদের বাস্তব জীবনে অনেক সময় দেখা যায়, দোয়া করার পরও প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। এই হতাশার অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় তাড়াহুড়ায় বা দোয়া ছেড়ে দেওয়ায়, যা ইসলামি শরিয়তে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।

দোয়ায় ‘তাড়াহুড়া’ বলতে আসলে কী বোঝায়?

অনেকে মনে করেন, দ্রুত দোয়া পড়াই হয়তো তাড়াহুড়া। কিন্তু হাদিসের ব্যাখ্যায় তাড়াহুড়া বলতে বোঝানো হয়েছে- দোয়া করার পর খুব দ্রুত ফল আশা করা এবং দ্রুত ফল না পেয়ে হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেওয়া।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে কোনো গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদের জন্য দোয়া করে এবং তাড়াহুড়া না করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! তাড়াহুড়া কী? তিনি বললেন- সে বলে- আমি তো দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি; কিন্তু কোনো ফল দেখিনি। তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দোয়া করা ছেড়ে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম: ৬৮২৯; সহিহ বুখারি: ৬৩৪০)

আরও পড়ুন: দোয়া কবুলের ৯টি জরুরি আদব: কোরআন-হাদিসের আলোকে


বিজ্ঞাপন


দোয়া কবুলের মূল শর্ত: ধৈর্য ও পূর্ণ বিশ্বাস

দোয়া কবুলের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ধীরস্থির থাকা এবং আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। বান্দাকে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, তার রব সব শুনছেন এবং তিনি সঠিক সময়ে সর্বোত্তম ফয়সালাই করবেন। দোয়ায় কোনো ধরনের সংশয়, নেতিবাচক ধারণা বা অভিযোগের মনোভাব রাখা যাবে না।

কেন দোয়া কবুল হতে দেরি হয়?

আল্লাহ তাআলা মহাজ্ঞানী ও পরম প্রজ্ঞাবান। বান্দার জন্য কোনটি কল্যাণকর আর কোনটি অকল্যাণকর তা তিনি বান্দার চেয়েও ভালো জানেন। অনেক সময় বান্দা যা চায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে পেলে তার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আল্লাহ কখনো দোয়া সঙ্গে সঙ্গে কবুল করেন, কখনো বিলম্বে দেন, আবার কখনো দোয়ার বিনিময়ে আখেরাতে বড় সওয়াব জমা রাখেন কিংবা কোনো অদৃশ্য বিপদ থেকে বান্দাকে রক্ষা করেন।

আরও পড়ুন: দোয়া কবুলের রহস্য লুকিয়ে আছে আল্লাহর এসব নামের মধ্যে

ধৈর্যই মুমিনের পরিচয়

রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে সর্বাবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে ধৈর্য ধারণ করাই প্রকৃত ঈমানের দাবি। ‘দোয়া কবুল হচ্ছে না’—এমন অভিযোগ নয়; বরং আল্লাহর দরবারে হাত তোলার তওফিক পাওয়াটাই একজন মুমিনের জন্য বড় নেয়ামত।

পরিশেষে বলা যায়, দোয়া শুধু চাওয়া-পাওয়ার মাধ্যম নয়; বরং এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। দোয়া কবুল হচ্ছে না ভেবে হতাশ হওয়া কিংবা তাড়াহুড়া করে দোয়া পরিত্যাগ করা আল্লাহর রহমত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার শামিল। একজন সচেতন মুমিনের উচিত- দোয়ার ফলাফল আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে ধৈর্য, বিনয় ও দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে আমৃত্যু প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সবর, একনিষ্ঠতা ও পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে দোয়া করার তওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর