ইসলাম নারী জাতিকে দিয়েছে সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদার গ্যারান্টি। একজন নারী যেন সৃষ্টির সেবা ও স্রষ্টার ইবাদতের মাধ্যমে খুব সহজেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করতে পারেন, সেজন্য ইসলামি শরিয়ত দিয়েছে অত্যন্ত সহজ কিছু দিকনির্দেশনা।
মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য জান্নাতের আটটি দরজা প্রস্তুত রেখেছেন। তবে পুণ্যবতী নারীদের জন্য রয়েছে এক অনন্য সুসংবাদ; তারা চাইলে এই আটটি দরজার যেকোনোটি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের বিরল সম্মান অর্জন করতে পারেন। এই মহাসৌভাগ্যের ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)।
জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীদের জন্য জান্নাতের পথ অত্যন্ত সুগম। কঠিন কোনো সাধনা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের মাত্র চারটি মৌলিক আমল সঠিকভবে পালন করলেই একজন নারী জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামতের অধিকারী হতে পারেন।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর পবিত্র বাণী
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন- إِذَا صَلَّتِ المَرْأةُ خَمْسَها وَصَامَتْ شَهْرَها وَحَصَّنَتْ فَرْجَها وأطاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَها أدْخُلِي الجَنَّة مِنْ أيِّ أبْوابِ الجَنَّةِ شِئْتِ ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজান মাসের রোজা পালন করে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে- কেয়ামতের দিন তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১৬৩)
আরও পড়ুন: যেসব মাসয়ালা নারীদের জানা জরুরি
বিজ্ঞাপন
নারীদের জন্য জান্নাতলাভের ৪টি সহজ আমল
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাতের আটটি দরজা দিয়ে প্রবেশের সুযোগ পেতে একজন নারীকে চারটি গুণ অর্জন করতে হবে।
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা: নামাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। একজন নারী যদি সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে গুরুত্বের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করেন, তবে এটিই হবে তার জান্নাতে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম।
২. রমজানের রোজা রাখা: রমজান মাস হলো গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস। বছরে মাত্র একটি মাস রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। জান্নাতপ্রত্যাশী নারীর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৩. সতীত্ব ও পর্দা রক্ষা করা: ইসলামে নারীর লজ্জা ও চরিত্রকে অনেক বড় সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। পর্দার বিধান মেনে চলে নিজের সতীত্ব ও চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখা জান্নাত পাওয়ার অন্যতম শর্ত। এটি শুধু একজন নারীকে নয়, বরং পুরো সমাজকে কলুষমুক্ত রাখে।
৪. স্বামীর আনুগত্য করা: শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে স্বামীর বৈধ আদেশ-নিষেধ মেনে চলা নারীর জন্য ইবাদতস্বরূপ। দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি বজায় রাখা এবং স্বামীর সন্তুষ্টির মাধ্যমে একজন নারী খুব সহজেই আল্লাহর প্রিয় হতে পারেন।
ইসলাম নারীদের জন্য জান্নাতকে কঠিন কোনো বিষয় বানায়নি। একজন নারী যদি ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে উল্লেখিত আমলগুলো জীবনে ধরে রাখতে পারেন, তাহলে জান্নাতের প্রতিটি দরজা তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকবে।

