শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সালামের ৫ অদৃশ্য শক্তি, যা ভ্রাতৃত্বকে নতুন রূপ দেয়

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সালামের ৫ অদৃশ্য শক্তি, যা ভ্রাতৃত্বকে নতুন রূপ দেয়

মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক বন্ধন ছাড়া তার অস্তিত্বই অর্থহীন। ইসলাম এই বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে এক বিশেষ উপহার দিয়েছে ‘সালাম’। এটি শুধু একটি অভিবাদন নয়; বরং সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক আল্লাহপ্রদত্ত শক্তি। সালামের মধ্যে লুকিয়ে আছে পাঁচটি অদৃশ্য প্রভাব, যা ভ্রাতৃত্বকে দেয় নতুন পরিচয়, নতুন গতি ও নতুন জীবন।

১. ইসলামিক উৎস ও আদি ঐতিহ্য

সালামের সূচনা মানুষের সৃষ্টির শুরু থেকেই। হাদিসে উল্লেখ আছে- আল্লাহ তাআলা স্বয়ং আদম (আ.)-কে ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে সালাম করতে শিখিয়েছিলেন। এ কারণে সালাম শুধুই একটি সামাজিক রীতি নয়; এটি আল্লাহপ্রদত্ত এক পবিত্র অভিবাদন। যেন বলা- ‘তোমার শান্তি চাই প্রিয়, তোমার নিরাপত্তা কামনা করি।’

২. মনস্তাত্ত্বিক বাঁধন ও হৃদয় জয়ের শক্তি

‘সালাম’ শব্দের অর্থই শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি। এটি হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ার মতো এক কোমল আমন্ত্রণ। নবীজি (স.) বলেন, ‘তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে চাইলে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (সহিহ মুসলিম)
সালাম অহংকার ঝেড়ে বিনয় সৃষ্টি করে, আর বিনয় এমন এক শক্তি, যা শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করতে পারে।

আরও পড়ুন: মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করার সওয়াব 


বিজ্ঞাপন


৩. সামাজিক রূপান্তরের হাতিয়ার

সালাম কেবল পরিচিতদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; অপরিচিতকে পরিচয়ে রূপ দেওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যমও এটি। সাহাবিরা জানতে চেয়েছিলেন- ‘কোন ইসলাম উত্তম?’ নবীজি (স.) উত্তর দিলেন, ‘খাবার দাও এবং পরিচিত–অপরিচিত সবাইকে সালাম দাও।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
অতএব, সালাম সমাজে সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা ও শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

৪. আধ্যাত্মিক উপকার ও সওয়াবের উৎস

সালাম দেওয়া ও তার উত্তর দেওয়া—দুটোই সওয়াবের কাজ। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদেরকে যখন সালাম জানানো হয়, তখন তার চেয়ে উত্তমভাবে বা অন্তত একইভাবে উত্তর দাও।’ (সুরা নিসা: ৮৬)
সালাম আল্লাহর রহমত ডেকে আনে, ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ রাখে এবং মুমিনের হৃদয়ে দয়া ও বরকত প্রতিষ্ঠা করে।

আরও পড়ুন: আনসার-মুহাজির ভ্রাতৃত্ব: মানব ইতিহাসে এক অনন্য ত্যাগের গল্প

৫. শত্রুতা দূরীকরণ ও সম্প্রীতি নির্মাণ

সালাম শত্রুতা গলিয়ে দেয়, মনোমালিন্য দূর করে এবং সম্পর্কের দেয়াল ভেঙে ফেলে। হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না ঈমানদার হও, আর ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসো।’ (সহিহ মুসলিম)
সালাম সেই ভালোবাসার প্রথম ধাপ, প্রথম সেতুবন্ধন।

সালামকে কেবল একটি অভিবাদন ভাবলে ভুল হবে। এটি এক পবিত্র সম্পর্ক-নির্মাণের টুল, যার পাঁচটি অদৃশ্য শক্তি সামাজিক বন্ধনকে গভীর করে, হৃদয়কে কোমল করে এবং সমাজকে শান্তিময় করে তোলে। পরিচিত–অপরিচিত নির্বিশেষে সালাম প্রচারের সুন্নত পুনর্জীবিত হোক আমাদের জীবনে। সালামই পারে আমাদের পরিবার, সমাজ ও জাতিকে কলহমুক্ত, প্রাণবন্ত এবং আল্লাহর রহমতপুষ্ট করে তুলতে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর