রোজা ইসলামে অন্যতম মহান ইবাদত। রমজান মাসে ফরজ রোজার পাশাপাশি সারাবছর ধরেই নফল রোজা পালনের মাধ্যমে বান্দা অতিরিক্ত সওয়াব ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য অর্জন করতে পারে। বিশেষ করে শীতের দিনে রোজা রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এই মৌসুমকে হাদিসে ‘মুমিনের বসন্তকাল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
রোজার অতুলনীয় মর্যাদা
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘মানুষের প্রতিটি নেক কাজ তার জন্যই; কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজা ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৪)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে- ‘রোজাদারের জন্য দুইটি আনন্দঘন মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো ইফতারের সময় এবং অন্যটি হলো (কেয়ামতের দিবসে) নিজ প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (বুখারি: ৭৪৯২; তিরমিজি: ৭৬৬)
সোম ও বৃহস্পতিবার রোজার সুন্নত এবং হেকমত
নবী কারিম (স.) সাপ্তাহিকভাবে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (স.) সোম ও বৃহস্পতিবার দিন রোজা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।’ (তিরমিজি; সহিহুত তারগিব: ১০২৭)
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: যেসব দিনে নফল রোজা রাখতেন নবীজি
এই দুটি দিনের একটি বিশেষ তাৎপর্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, রোজা থাকা অবস্থায় যেন আমার আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।’ (তিরমিজি: ৭৪৭; সহিহুত তারগিব: ১০২৭)
শীতকাল ইবাদতের ‘বসন্ত’
শীতে দিন ছোট হওয়ায় এবং আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় রোজা রাখা অধিক সহজ। এজন্য সালাফে সালেহিন এই মৌসুমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। শীতকালকে মুমিনের বসন্তকাল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন প্রিয় নবীজি। (মুসনাদে আহমদ: ১১৬৫৬)
তাই মুমিনের জন্য শীতের সোম ও বৃহস্পতিবার নেকি অর্জনের একটি বড় সুযোগ। আরেক হাদিসে রাসুল (স.) বলেন- ‘শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা পালন করা।’ (তিরমিজি: ৭৯৫)
রোজার মহান ফজিলত প্রসঙ্গে আরও বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি একদিন আল্লাহর পথে রোজা রাখে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে সত্তর বছরের পথের দূরত্ব তৈরি করে দেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৮৪০)
আরও পড়ুন: শীতকালে সহজে পালনযোগ্য ৬টি মূল্যবান আমল
অন্যান্য সুন্নত রোজা
আইয়ামে বিজ (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ): নবীজি (স.) প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন। (তিরমিজি: ৭৬১)
সোমবারের বিশেষ ফজিলত: নবীজি (স.) বলেন- ‘এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এই দিনে আমাকে নবুয়ত প্রদান করা হয়েছে (অথবা এই দিনে আমার উপর ওহি নাযিল শুরু হয়েছে)।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
মোটকথা, শীতকাল ইবাদতের জন্য অত্যন্ত অনুকূল সময়। রোজা, তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুমিন সহজেই আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারেন। বিশেষ করে সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়ামে বিজের সুন্নত রোজা শীতকালে আরও সহজভাবে পালন করা সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলো অনুসরণ করে মুমিন ব্যক্তি নিজের ঈমান, চরিত্র ও আখেরাতের প্রস্তুতি সুদৃঢ় করতে পারেন। শীতের এই ‘শীতল গনিমত’ যেন আমাদের সবার জন্য হয় আধ্যাত্মিক বসন্তের সূচনা।

