শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জুলুমের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর অবস্থান ও মজলুমের অধিকার

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলুমের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর অবস্থান ও মজলুমের অধিকার

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলুম বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোরআন ও হাদিসে জুলুমকে মানবতার জন্য ধ্বংসাত্মক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা জালিমদের জন্য ভয়াবহ পরিণতির বার্তা দিয়েছেন এবং মজলুমদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

মজলুমের পক্ষে আল্লাহর অবস্থান

পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৭৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা কেন আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো না দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের মুক্তির জন্য, যারা বলে— হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এই জনপদ থেকে মুক্তি দান করুন, যেখানে অধিবাসীরা অত্যাচারী।’ এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, মজলুমদের পক্ষে দাঁড়ানো ও জালিমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ঈমানের দাবি।

জালিমের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

আলেমদের মতে, জালিম ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত এবং জান্নাত থেকে দূরে। কোরআনের সুরা আনফালের ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা জালিম সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় তোমাদের সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ কর।’ অর্থাৎ, অন্যায়ের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইকে সাহায্য করো সে জালিম হোক বা মজলুম।’ সাহাবি আনাস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘মজলুমকে সাহায্য করব তা বুঝলাম, কিন্তু জালিমকে কীভাবে?’ রাসুল (স.) উত্তরে বলেন, ‘তুমি তার হাত ধরে তাকে অন্যায় থেকে বিরত রাখবে।’ (সহিহ বুখারি: ২৪৪৪)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: জালেমকে সহযোগিতার পরিণতি

মজলুমের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, মজলুমের দোয়া আল্লাহর দরবারে সরাসরি কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, ‘মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করো, কারণ তার ফরিয়াদ ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।’ (সহিহ বুখারি: ২৪৪৮)

জুলুমের ভয়াবহ পরিণতি

রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করেছেন, ‘জুলুম কেয়ামতের দিন গাঢ় অন্ধকারে রূপ নেবে।’ (সহিহ বুখারি: ২৪৪৭) অর্থাৎ, অন্যায়কারী ব্যক্তি পরকালে বিভ্রান্তি ও যন্ত্রণার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য

ইসলামি মনিষীদের মতে, কেউ যদি অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখে অথচ তাকে প্রতিহত না করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে আজাবে আক্রান্ত করতে পারেন। সুনানে তিরমিজির ২১৬৮ নম্বর হাদিসে এই সতর্কবার্তা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জুলুমের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর ওয়াদা

জুলুম থেকে রক্ষার দোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) শিক্ষা দিয়েছেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল ফাকরি ওয়াল কিল্লাতি ওয়াজ্জিল্লাতি, ওয়া আউজুবিকা মিন আন আজলিমা আও উজলামা।’ অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দরিদ্রতা, দুর্বলতা, লাঞ্ছনা ও জুলুম করা বা জুলুমের শিকার হওয়া থেকে।’ (আবু দাউদ: ১৫৪৪)

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, জুলুম ও ন্যায়ের মধ্যে সীমারেখা একেবারে স্পষ্ট। মজলুমের পাশে দাঁড়ানো এবং জালিমের অন্যায় রোধ করা ইসলামের মৌলিক আদর্শের অংশ। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের জুলুম থেকে দূরে রাখেন, মজলুমের সাহায্য করার তাওফিক দেন এবং ন্যায়ের পথে দৃঢ় রাখেন— এ দোয়া আমাদের সবার।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর