শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যু হলে কী হবে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যু হলে কী হবে

ইসলামে ঋণ পরিশোধকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধে অবহেলা করা মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়। যত দ্রুত সম্ভব ঋণ শোধ করে দেওয়া উত্তম, কারণ মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘ঋণের বোঝা নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে কেয়ামতের দিন নেকি থেকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।’ (বুখারি, মেশকাত: ৫১২৬)

মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ওয়ারিসদের প্রথম দায়িত্ব হলো- মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা। ঋণ শোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিসরা পাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এসব (ওয়ারিসদের প্রাপ্য) অসিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পরই দেওয়া হবে।’ (সুরা নিসা: ১১)

আরও পড়ুন: যে গুনাহ জান্নাত থেকে চিরতরে বঞ্চিত করে দেয়

যদি মৃত ব্যক্তির সম্পদ ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে অন্য কেউ তা পরিশোধ করলে তা আদায় হয়ে যাবে এবং আদায়কারী সওয়াব পাবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তির জানাজা পড়েননি, কারণ তার ঋণ ছিল এবং তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়নি। সাহাবি আবু কাতাদা (রা.) ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়ার পর নবীজি (স.) জানাজা পড়েন। (সহিহ বুখারি: ২২৯৫)

আল্লাহর রহমত: ঋণগ্রস্তদের জন্য সুসংবাদ

যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় তা আদায় করতে পারে না, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন নিজেই তার পক্ষ থেকে ঋণ শোধ করবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাস করবেন, তুমি কেন ঋণ নিয়েছিলে? সে উত্তরে বলবে, হে রব! আমি তা সৎ উদ্দেশ্যে নিয়েছিলাম, অপচয় করিনি। আল্লাহ বলবেন, আজ আমি তোমার ঋণ শোধ করব।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৪/১৩৬)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঋণমুক্ত জীবন দান করুন এবং ঋণের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর