বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা আপনার জন্য যা করবেন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা আপনার জন্য যা করবেন

প্রকৃত মুমিনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো- তারা অপর ভাইদের জন্য দোয়া করেন। এটি আসলে মুমিন হৃদয়ের স্বচ্ছতার প্রমাণ। কারো হৃদয়ে কুটিলতা থাকলে সে অন্যের জন্য দোয়া করতে পারে না। অন্যের জন্য দোয়া করার ফজিলত সীমাহীন। হাদিসে এ ব্যাপারে উৎসাহমূলক অনেক বক্তব্য রয়েছে।

অন্যের জন্য দোয়া করলে সঙ্গে সঙ্গে যা পাবেন তা হলো- একই দোয়া আপনার জন্য করবেন একজন ফেরেশতা। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের জন্য তার পশ্চাতে দোয়া করে, তখন তার (মাথার কাছে নিযুক্ত) একজন ফেরেশতা তাঁকে লক্ষ্য করে বলে, তোমার জন্যও এমনই হোক’। (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)


বিজ্ঞাপন


ফেরেশতারা নিষ্পাপ ও পূত-পবিত্র। তারা সর্বদা আল্লাহর তাসবিহ ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন। তাই তাদের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের অবর্তমানে তার জন্য নেক দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে, যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, তখনই ওই ফেরেশতা বলেন, ‘আমিন! তোমার জন্যও এমনই হোক”। (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)

আরও পড়ুন: শামের জন্য যে দোয়া করেছিলেন নবীজি

খুব সহজ ও চমৎকার একটি আমল। ধরুন, আপনি অসুস্থ, ওই অবস্থায় আপনার অসুস্থ ভাইদের জন্য দোয়া করুন। এতে মিলবে কী? হাদিসের ভাষ্যমতে, আপনার জন্যও অনুরূপ দোয়া করবেন ফেরেশতারা। ধরুন, আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তো আপনার যেসব ভাই আপনার মতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাদের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করতে থাকুন, এর বিনিময়ে ফেরেশতারা আপনার নিরাপত্তার জন্য দোয়া করবেন। 

মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করার আরেকটি বড় উপকার হচ্ছে এতে সীমাহীন সওয়াব আমলনামায় লেখা হয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, প্রত্যেক মুসলমানের বিপরীতে একটি করে সওয়াব মহান আল্লাহ তার আমলনামায় লিখে দেন।’ (তাবরানি: ৩/২৩৪) 


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হয় যেভাবে

অনুপস্থিত ভাইদের জন্য যেকোনো দোয়া করতে পারেন। যেমন- পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি করা যায়— رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফির লানা ওয়ালিয়িহওয়া-লিনাল্লাজীনা সাবাক্বুনা- বিল ই-মানি ওয়ালা তাজআল ফী ক্বুলু-বিনা গিল্লাল্লিল্লাজীনা আ-মানূ রাব্বানা ইন্নাকা গাফূরুর রাহীম।’ অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদের ক্ষমা করুন। আর মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! আপনি তো দয়ালু, পরম দয়ালু।’ (সুরা হাশর: ১০)

ইবরাহিম (আ.)-এর জবানে সব মুসলমানের জন্য আরেকটি সুন্দর দোয়া হলো— رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ উচ্চারণ: ‘রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি-দাইয়্যা ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ অর্থ : হে আমাদের রব! আমাকে, আমার মাতা-পিতাকে এবং সব ঈমানদারকে আপনি সেই দিন ক্ষমা করে দিন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে। (সুরা ইবরাহিম: ৪১)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্যের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। সকল মুসলিমের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর