বিজয় দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি কাউকে বিজয় দিলে বা যেকোনো সাহায্য করলে তা ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণকারী নেই।’ (সুরা ফাতির: ২) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করলে তোমাদের ওপর জয়ী হওয়ার কেউ থাকবে না। আর তিনি তোমাদের সাহায্য না করলে, তিনি ছাড়া কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? মুমিনরা আল্লাহর ওপরই নির্ভর করুক।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৬০)
যারা মনে করে বিজয় আসে শক্তিমত্তার কারণে বা পাওয়ারের কারণে, ইসলামের দৃষ্টিতে তা ভুল ধারণা মাত্র। বাস্তবে, বিজয় শক্তি বা জনবলের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই তো বদরে মুসলমানরা সংখ্যায় কম হয়েও বিজয়ী হয়েছিল এবং হুনাইনে সংখ্যায় বেশি হয়েও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ তোমাদেরকে বদর যুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন। সে সময় তোমরা ছিলে অসহায়।’ (সুরা আলে ইমরান: ১২৩) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘হুনাইনের যুদ্ধের দিন যখন তোমাদের উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য; কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি।’ (সুরা তাওবা: ২৫)
আরও পড়ুন: মক্কা বিজয়ের পর যাদের ক্ষমা করেননি নবীজি
কোরআনে যাদের জন্য বিজয়ের অঙ্গীকার
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যাদের জন্য বিজয়ের অঙ্গীকার করেছেন তাদের পরিচয়
১. ধৈর্যশীল দৃঢ়চেতা মুমিন
মহান আল্লাহ ধৈর্যশীল ও দৃঢ় প্রত্যয় মুমিনদের বিজয়ী করেন। আল্লাহ তাআ বলেন, ‘কিন্তু যাদের প্রত্যয় ছিল আল্লাহর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ ঘটবে তারা বলল, আল্লাহর হুকুমে কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলকে পরাভূত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ২৪৯)
২. আল্লাহর পথে সংগ্রামী দল
আল্লাহর পথের মুজাহিদদের আল্লাহ শক্তিশালী করেন এবং বিজয়ী করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করবেন।’ (সুরা মুহাম্মদ: ৭)
আল্লাহ তিনভাবে বিজয় ত্বরান্বিত করেন। ১. মুমিনদের মাধ্যমে অন্য মুমিনের বিজয়। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তারা তোমাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তোমাকে স্বীয় সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন এবং তিনি তাদের পরস্পরের হৃদয়ের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন।’ (সুরা আনফাল: ৬২-৬৩) ২. ফেরেশতা ও প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে বিজয় ত্বরান্বিত করা হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু ও এক বাহিনী, যা তোমরা দেখনি।’ (সুরা আহজাব: ৯) ৩. শত্রুর মনে ভয় সৃষ্টির মাধ্যমেও আল্লাহ মুমিনদের সাহায্য করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কল্পনাও করোনি যে তারা নির্বাসিত হবে এবং তারা মনে করেছিল তাদের দুর্গগুলো তাদেরকে রক্ষা করবে আল্লাহ থেকে। কিন্তু আল্লাহর শাস্তি এমন এক দিক থেকে এলো, যা ছিল তাদের ধারণাতীত এবং তাদের অন্তরে তা ত্রাসের সঞ্চার করল।’ (সুরা হাশর: ২)
বিজয়ের পর করণীয়
মুমিন যদি আল্লাহর অনুগ্রহে বিজয়ী হয়, তবে তারা আল্লাহ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বিনে প্রবেশ করতে দেখবে, তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি তো তাওবা কবুলকারী।’ (সুরা নাসর: ১-২)
আরও পড়ুন: ইসলামে বিজয় উদযাপনের রীতি
বিজয়ের পর আনুগত্যের মূল্য
যারা সংকটের সময় ঈমান আনে ও আল্লাহর আনুগত্য করে, যারা দেশ ও উম্মাহর মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে তারা এবং যারা বিজয়ের পর আনুগত্যের ঘোষণা দেয় তারা সমান নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে, তারা ও পরবর্তীরা সমান নয়। তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীতে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে।’ (সুরা হাদিদ: ১০)
প্রসঙ্গত, বিজয়ের পর কিছু সুযোগ সন্ধানী বের হয়, যাদের ঈমান ঠিক নেই। যে পক্ষই বিজয়ী হোক তারা সুবিধা ভোগ করতে চায়। এ বিষয়টিও আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জয় হলে বলে, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? আর যদি অবিশ্বাসীদের কিছু বিজয় হয়, তবে তারা বলে, আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছিলাম না? এবং আমরা কি তোমাদেরকে মুমিনদের থেকে রক্ষা করিনি?’ (সুরা নিসা: ১৪১)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র কোরআনের মর্ম অনুধাবনের তাওফিক দান করুন। আল্লাহর পথের প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।




