পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ বিতিরি। এই নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগপর্যন্ত বিতর নামাজ পড়ার সময়। তবে নিয়মিত শেষ রাতে ওঠার অভ্যাস আছে এমন ব্যক্তির জন্য রাতের শেষ ভাগে বিতির পড়া উত্তম।
বিতির নামাজ কেউ মিস করলে তাকে তা কাজা আদায় করতে হবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (স.) বলেন, যে ব্যক্তি বিতির নামাজের কথা ভুলে যায় বা বিতির পড়া ছাড় ঘুমিয়ে পড়ে সে যেন স্মরণ হওয়ামাত্রই বা ঘুম থেকে ওঠামাত্রই বিতির পড়ে নেয়। (মুসনাদে আহমদ: ১১২৬৪)
বিজ্ঞাপন
রাসুল (স.) কখনো বিতির ছাড়তেন না। সাহাবিদেরও বিতির পড়ার নির্দেশ দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমার প্রিয়তম (রাসুল স.) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, যেন আমি তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্যাগ না করি। প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুহার নামাজ ও ঘুমানোর আগে বিতির আদায় করা।’ (সহিহ বুখারি: ১১৭৮)
আরও পড়ুন
বিতিরে দোয়া কুনুত না পড়লে নামাজ হবে?
যে ৩টি আমল সারাজীবন আঁকড়ে ধরার অসিয়ত করেছেন নবীজি
বিতির নামাজের কাজা আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে ফিকাহবিদদের তিনটি মতামত পাওয়া যায়। ১. হানাফি মাজহাবমতে যারা বিতির নামাজ আদায় করেনি, তার ওপর বিতিরের কাজা আদায় করা ওয়াজিব। তিনি ইচ্ছে করে বিতির নামাজ ছেড়ে দিয়েছে অথবা অনিচ্ছাকৃত- যেভাবেই হোক। অতএব তিনি যদি ফজরের নামাজ পড়া শুরু করে দেন এবং বিতিরের নামাজের কথা তার স্মরণ হয়, তাহলে তার ফজরের নামাজ হবে না। কারণ, এক্ষেত্রে বিতির নামাজ ও ফরজ (ফজর) নামাজের ধারাবাহিকতা ধর্তব্য।
২. ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে ফজরের নামাজ আদায়ের আগে বিতির নামাজ পড়ে নেবে। যদি ফজরের আগে কাজা আদায় করা না হয়, তাহলে সূর্যোদয়ের পর কাজা আদায় করে দিতে হবে। ৩. শাফেয়ি মাজহাবমতে কেউ যদি বিতির নামাজ পড়তে ভুলে যায় এবং ফজরের নামাজ পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য বিতিরের কাজা আদায় করা আবশ্যক নয়। (আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আজদি, মুখতাসারু ইখতিলাফিল উলামা, দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া বৈরুত থেকে প্রকাশিত, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২৮৪-২৮৫)




