বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

আকিকার পশু কেমন হওয়া উত্তম

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৪, ১০:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আকিকার পশু কেমন হওয়া উত্তম

শিশুর জন্মের পর আকিকা দেওয়া ইসলামের একটি বিধান। প্রিয়নবী (স.) উম্মতকে নবজাতকের জন্য আকিকা দিতে উৎসাহ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ পশু জবাই করো) এবং সন্তানের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (চুল) দূর করে দাও।’ (বুখারি: ৫৪৭২)

সাধারণত সন্তান ভূমিষ্ঠের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। রাসুল (স.) তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। (আবু দাউদ: ২৮৩৪) 


বিজ্ঞাপন


তা সম্ভব না হলে ১৪তম দিনে। তাও সম্ভব না হলে ২১তম দিনে করা ভালো। (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৬৬৯) তাও সম্ভব না হলে পরবর্তীতে যেকোনো দিন আকিকা আদায় করতে পারবে। (ইবনুল কাইয়িম, তুহফাতুল মাওদুদ: ৬৩ পৃ; ফতোয়া লাজনা দায়েমা: ১৭৭৬; মাজমু ফতোয়া উসাইমিন: ২৫/২১৫)

আরও পড়ুন: শিশুর ভয় দূর করতে যে দোয়া পড়ে ফুঁ দেবেন

ছেলেসন্তানের পক্ষ থেকে একই ধরনের দুটি বকরি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নত। (ফতোয়ায়ে শামি: ৬/৩৩৬) তবে, ছেলের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করলেও মোস্তাহাব আদায় হয়ে যাবে। যদিও দুটি করা উত্তম। (রদ্দুল মুহতার: ৫/২১৩, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩০/২৭৭)

আকিকার পশু কেমন হবে—এ সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য হলো- যেসব জন্তু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হয় না, সেসব জন্তু দিয়ে আকিকাও শুদ্ধ হয় না। তাই আকিকার ক্ষেত্রে জন্তুর বয়স ও ধরনের দিক থেকে কোরবানির জন্তুর গুণ পাওয়া যায়, এমন জন্তুই নির্বাচন করতে হবে। (তিরমিজি: খ. ৪, পৃ-১০১) 


বিজ্ঞাপন


akika

পরিষ্কার ভাষায় বললে, আকিকার বকরির বয়স ন্যূনতম এক বছর হওয়া শর্ত। এর কম বয়সী বকরি দিয়ে আকিকা শুদ্ধ হবে না। যেহেতু কোরবানিতে খাসি দেওয়া উত্তম, তাই আকিকাতেও খাসি দেওয়াই উত্তম। জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) কোরবানির দিন দুটি শিংওয়ালা, সাদা কালো রংওয়ালা খাসি করা বকরি জবাই করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৯৫)

আকিকার গোশত বণ্টন সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরামের মত হলো- আকিকা ও কোরবানির গোশতের হুকুম একই। অর্থাৎ কোরবানির গোশত যেমন তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজের জন্য রাখা, এক ভাগ গরিবকে দেয়া ও একভাগ আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করা উত্তম। আবার ইচ্ছে করলে পুরোটাই নিজের জন্য রাখা জায়েজ আছে। ‘কাঁচা ও রান্না করা উভয়টিই বণ্টন করা যাবে। সর্বস্তরের লোক তা খেতে পারবে। এমনকি নিজের মা-বাবা, নানা-নানী, ধনী-গরিব সবাই নিশ্চিন্তে আকিকার গোশত খেতে পারবে।’ (ফতোয়ায়ে শামি: ৬/৩৩৬)

আরও পড়ুন: গোসল ফরজ অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করানো যাবে?

কোরবানির জন্তুর সঙ্গে আকিকা করার নিয়ম হলো- একটি বড় পশুতে তিন শরিক কোরবানি হলে সেখানে আরো দু-এক শরিক আকিকার জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তদ্রূপ কোরবানির মতো একই পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হয়ে আকিকা আদায় করতে পারবে। (দুররুল হুক্কাম: ১/২৬৬) বড় পশু তথা গরু, মহিষ, উট ইত্যাদিতে ছেলের জন্য এক শরিক আকিকা দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

তবে, যদি এক অংশেই কোরবানি ও আকিকার নিয়ত করে, তাহলে কোরবানি হবে না। বকরি, ভেড়া ও দুম্বায় একটি নিয়ত করতে হবে। আর বড় পশুর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা অংশে কোরবানি ও আকিকা করলে কোরবানি ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে। আর মৃত বাচ্চার আকিকার প্রয়োজন নেই। যেহেতু আকিকা করা হয় বালা-মসিবত দূর করার জন্য, তাই মৃত বাচ্চার পক্ষ থেকে আকিকা করা সুন্নত নয়। (আহসানুল ফতোয়া: ৭/৫৩৬)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবীজির সুন্নতের অনুসরণে সন্তানের আকিকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর