সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সাহাবিরা রমজান কাটাতেন যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৪, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সাহাবিরা রমজান কাটাতেন যেভাবে

পবিত্র রমজান রহমত, বরকত ও ক্ষমালাভের মাস। তাকওয়া অর্জন ও গরিব-দুঃখীদের কষ্ট অনুভব করার মাস। কোরআন নাজিলের মাস। হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ একটি রাত লাইলাতুল কদরের মাস। মহিমান্বিত এ মাসের আগমনে রাসুল (স.)-এর সাহাবিদের জীবনচিত্র পাল্টে যেত। পার্থিব সব ব্যস্ততাকে এক পাশে ঠেলে নিবিড় ঐকান্তিকতায় ডুবে যেতেন মহামহিম রবের ইবাদত-অর্চনায়।

সাহাবিদের যুগে রমজানের যে সোনালি চিত্র আমরা দেখতে পাই, সেখানে আমাদের জন্য রয়েছে অনুপম শিক্ষা। পবিত্র রমজানে সাহাবি-জীবনের কিছু চিত্র এখনে তুলে ধরা হলো-


বিজ্ঞাপন


আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)
বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সর্বদা অসহায়-দুস্থদের নিয়ে ইফতার করতেন। তার পরিবার কখনও আপত্তি করলে তিনি সে রাতে আর খাবার খেতেন না। কখনও খাবার খাওয়া অবস্থায় কোনো ভিক্ষুক চলে এলে তিনি তার অংশ নিয়ে তাকে দিতেন। নিজে অভুক্ত অবস্থায় রাত পার করতেন।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ: ১৬৮/১)

আরও পড়ুন: সাহাবিদের সম্পর্কে আল্লাহ যা বলেছেন

ইবনে ওমর (রা.) এর হাতে গড়া শিষ্য ইমাম নাফে (রহ.) বলেন, ‘রমজানে ইবনে ওমর (রা.) বাড়ি থাকতেন। যখন (রাতে) মসজিদ থেকে লোকজন চলে যেত, তিনি পানির একটি মশক নিয়ে মসজিদে নববিতে চলে যেতেন। সারারাত ইবাদতে কাটিয়ে ফজর পড়ে বেরুতেন।’ (সিফাতুস সাফওয়া: ২৭১/১)

আনাস ইবনে মালেক (রা.)
রাসুল (সা.)-এর দীর্ঘকালের খাদেম আনাস (রা.) রমজানের রাতে প্রিয় রাসুল (স.)-এর পেছনে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি বলেন, রাসুল (স.) রমজানে (রাতে) সালাত আদায় করতেন। একদিন আমি এসে তার পাশে দাঁড়ালাম। এরপর এক ব্যক্তি এসে দাঁড়াল। এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা একটি দলে পরিণত হলাম। রাসুল (স.) যখন টের পেলেন, আমরা তার পেছনে দাঁড়ানো, তখন সংক্ষেপে সালাত আদায় করতে লাগলেন। এরপর তিনি তার ঘরে ঢুকে একাকী সালাত আদায় করলেন। সকালে আমরা তাকে বললাম, ‘আপনি রাতে কৌশলে আমাদের থেকে সরে পড়েছেন!’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। তোমরা জড়ো হওয়ায় আমাকে কৌশল করতে হয়েছে।’ (মুসলিম: ১১০৪)


বিজ্ঞাপন


আবু হুরায়রা (রা.)
রাসুল (স.)-এর সর্বক্ষণের সঙ্গী বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) রমজান মাসে দিনের সময়টুকু মসজিদেই কাটিয়ে দিতেন। তার সম্পর্কে আবু নুআইম (রহ.) বলেন, ‘আবু হুরায়রা (রা.) ও তার সঙ্গীরা রমজানে মসজিদে অবস্থান করতেন। তারা বলতেন, আমরা আমাদের রোজা পবিত্র করছি।’ (হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩৮২/১)

আরও পড়ুন: কোরআনের যেসব আয়াত পড়ে সাহাবিরা কাঁদতেন

এ সাহাবি (রা.) রমজানে খুব সামান্য খাবার গ্রহণ করতেন। অধিক পানাহার করলে আলস্য পেয়ে বসার ভয় পেতেন। (হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩৮৪/১, ৩৮২/১)

আবু হুরায়রা (রা.) রমজানে অধিক হারে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন এবং পরিবারকেও উদ্বুদ্ধ করতেন। আল্লামা ইবনুল জাওযি (রহ.) বর্ণনা করেন, ‘তিনি রাতকে তিন ভাগে ভাগ করতেন। তার স্ত্রী, তাদের সেবক এবং তিনি পালাক্রমে এ সময়ে ইবাদতে মশগুল হতেন। একজন ঘুমিয়ে পড়লে অপরজনকে ডেকে দিতেন। যেন রাতের কোনো অংশে তাদের ঘর ইবাদতশূন্য না হয়।’ (সিফাতুস সাফওয়া: ২৬৯/১)

ওসমান গনি (রা.)
বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার ইবনে বাত্তাল (রহ.) বর্ণনা করেন, ‘ইসলামের তৃতীয় খলিফা ওসমান ইবনে আফফান (রা.) প্রতি রাতে পূর্ণ এক খতম কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করতেন।’ (শরহু ইবনে বাত্তাল: ৩৯০/২)

ইবনে মাসউদ (রা.)
রমজানে ইবনে মাসউদ (রা.) তিন রাতে পুরো কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করতেন। (আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, বর্ণনা: ৪০৫৯)

আরও পড়ুন: রমজানে যেসব কাজের সওয়াব বেশি

তামিম দারি (রা.) ও উবাই ইবনে কাআব (রা.)
রমজান এলে তামিমে দারি (রা.) সাত রাতে আর উবাই ইবনে কাআব (রা.) আট রাতে পুরো কোরআনুল করিম তিলাওয়াত করতেন। (আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, বর্ণনা: ৪০৫৯)
অন্য বর্ণনামতে, তামিম দারি (রা.) রমজানের রাতে পূর্ণ কোরআন খতম করতেন। (শরহু ইবনে বাত্তাল: ৩৯০/২)

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)
সাহাবায়ে কেরাম সবসময় গুনাহ থেকে সতর্ক থাকতেন। চোখ-কান-জবানকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। রমজান এলে তারা আরও বেশি সতর্ক হয়ে যেতেন এবং মানুষকেও সেই নির্দেশনা দিতেন। তাদের মধ্যে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) অন্যতম। হাদিস শরিফে এসেছে, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘যখন তোমরা রোজা রাখবে, তখন তোমাদের কান, তোমাদের চোখ, তোমাদের জবান মিথ্যা ও গুনাহ থেকে রোজা রাখবে। খাদেমকে কষ্ট দেবে না। রোজার দিন গাম্ভীর্যভাব নিয়ে থাকবে’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯৮৭৩)। অন্য হাদিসে এসেছে, ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘রোজা শুধু পানাহার বর্জনের নাম নয়, বরং রোজা মিথ্যা, বাতিল ও বেহুদা কসম খাওয়া বর্জন করার নামও।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯৮৭৫)

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর