সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

লজ্জা আগে, না দ্বীনি জ্ঞান?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৩, ০১:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

লজ্জা আগে, না দ্বীনি জ্ঞান?

ইলম বা ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। কেননা ইলম অর্জন না করলে সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যায় না। দ্বীনি জ্ঞান ছাড়া মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করাও যায় না। তাই মহান আল্লাহ ইলম শিক্ষাকারী ও শিক্ষাদাতাকে সর্বোচ্চ সম্মান দান করেছেন। রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে পবিত্র কোরআন শিখে এবং শেখায়। (বুখারি: ৫০২৭)

রাসুলুল্লাহ (স.) আরও ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের সহিহ বুঝ দান করেন। (সহিহ বুখারি: ৭১; সহিহ মুসলিম: ১০৩৭) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যেই ব্যক্তি ইলম তলবের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করবে আল্লাহ তাআলা বদৌলতে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)


বিজ্ঞাপন


কিন্তু মানুষের সুন্দর এক স্বভাব এই ইলম অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। তা হলো লজ্জা। এটি অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় গুণ। হাদিসের ভাষ্যে একে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। তবে ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে অধিক লজ্জা বর্জনীয়। লজ্জা একজন ইলমপ্রত্যাশীকেও আজীবন অজ্ঞই রেখে দেয়। ফলে ইলমের মতো মহাকল্যাণ থেকে তারা বঞ্চিত হয়। 

আয়েশা (রা.) আনসারী নারীদের প্রশংসা করে বলেন, نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءُ الأَنْصَارِ لَمْ يَمْنَعْهُنّ الحَيَاءُ أَنْ يَتَفَقّهْنَ فِي الدِّينِ ‘আনসারী নারীরা কতই না উত্তম! দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে লজ্জা তাদের জন্য বাধা হয় না।’ (সহিহ বুখারি: ১৩২, ইফা)

আরও পড়ুন: যেসব আমলে আল্লাহর রাগ কমে যায়

উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রাসুল (স.)-এর কাছে উম্মে সুলাইম (রা.) এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল (স.), আল্লাহ সত্য ও ন্যায্য কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। নারীদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নবী (স.) বলেন, হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে। তখন উম্মে সালামা (লজ্জায়) তার মুখ ঢেকে নিয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, নারীদেরও স্বপ্নদোষ হয় কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তোমার ডান হাতে মাটি পড়ুক! (তা না হলে) তাদের সন্তান তাদের আকৃতি পায় কিভাবে? (বুখারি: ১৩০)


বিজ্ঞাপন


আলোচ্য হাদিস থেকে জানা যায়, জ্ঞানের কথা, প্রয়োজনীয় কথা প্রকাশে কোনো লজ্জা থাকা উচিত নয়।

ইলম অর্জনে আরেকটি বড় বাধা হলো অহংকার। বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.) বলেন- لاَ يَتَعَلّمُ العِلْمَ مُسْتَحْيٍ وَلاَ مُسْتَكْبِرٌ ‘অনর্থক লজ্জাকারী ও অহংকারী ইলম থেকে বঞ্চিত হয়’ (সহিহ বুখারি: ১৩২) অহংকার এতটাই খারাপ স্বভাব যে জান্নাতে যাওয়ার পথেই অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অহংকারীদের ‘বলা হবে- জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে চিরকাল এখানে থাকতে হবে। অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট!’ (সুরা যুমার: ৭২) মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তিল পরিমাণ অহংকার যার অন্তরে আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না..।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৯৮)

আরও পড়ুন: ৬ পাপে আল্লাহর ক্রোধ

মুমিন কখনও অহংকারী হতে পারে না। মুমিনকে হতে হয় বিনয়ী। চলনে বলনে সর্বক্ষেত্রে বিনয়ী। ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে হতে হবে আরো বেশি বিনয়ী। আর লজ্জা সবসময়ের জন্য ভালো হলেও ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে লজ্জাকে বেশি প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কেননা ইলম অর্জন ফরজ। সুতরাং আগে ইলম, তারপরে লজ্জা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অহংকারের মতো খারাপ স্বভাব থেকে হেফাজত করুন। দ্বীনি জ্ঞান অর্জনে লজ্জাসহ সকল বাধা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর