ইসলামি শরিয়তে জনগণের ভোট, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ, জাতীয়তাবাদ, সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন—ইত্যাদি বিষয়ের অস্তিত্ব না থাকলেও একজন খারাপ মানুষের বিপরীতে ভালো মানুষকে নির্বাচন করার অনুমতি ইসলামে আছে কি না জানতে চান অনেকে।
এর উত্তরে হক্কানি আলেমদের বক্তব্য হলো—গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামি খেলাফত সম্ভব নয় এবং খেলাফত কায়েমের জন্য গণতন্ত্র ইসলামিক পদ্ধতি নয়—এ কথাগুলোর ওপর বিশ্বাস রেখে শুধুমাত্র মন্দ লোকের নেতৃত্ব থেকে সমাজকে রক্ষার চেষ্টা হিসেবে ভালো লোককে ভোট দেওয়া জায়েজ।
বিজ্ঞাপন
এমনকি আপনার সমর্থনের অভাবে যদি কোনো খারাপ লোক ক্ষমতাসীন হয়ে সমাজে অন্যায়-অনাচার-জুলুম করে বেড়ায়, এর দায়ভার ভোট না দিয়ে বসে থাকার কারণে আপনার ওপরও বর্তাবে। তাই খারাপের তুলনায় ভালোকে সহযোগিতা করার মানসে ভোট দেওয়া শরয়ী দায়িত্ব। ভোট না দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা জায়েজ নয়। ইসলামে ভোট, ভোট দেওয়া জিহাদ, ভোট দেওয়া শিরক, ভোট হারাম
এভাবে মন্দকে প্রতিহত করার জন্য আপনার ভোট দেওয়ার অর্থ এটা হবে না যে, আপনি ইসলামের বাইরের কোনো পদ্ধতি মেনে নিচ্ছেন। বরং আপনি সাময়িকভাবে ভালোর পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছেন মাত্র। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা কর, আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে জ্ঞাত।’ (সুরা বাকারা: ২৮৩)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তিকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়, কিন্তু সে তা দেয় না, তাহলে সে যেন অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্য দিল। (আলমুজামুল আওসাত: ৪১৬৭)
জায়েদ বিন খালেদ জুহানি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, আমি কি তোমাদের বলব না- উত্তম সাক্ষ্য কে? ওই ব্যক্তি, যে চাওয়া ছাড়াই সাক্ষ্য দিয়ে দেয়। (সহিহ মুসলিম: ১৭১৯, মুসনাদে আহমদ: ২১৬৮৩, সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৯৬)
বিজ্ঞাপন
হজরত আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, যদি লোকেরা জালিম ব্যক্তিকে দেখেও তাকে বাঁধা না দেয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সবার ওপর আজব নাজিল করে দিতে পারেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৩৩৮, মুসনাদে আহমদ: ৫৩, সুনানে তিরমিজি: ২১৬৮, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩০৫)
হাদিসে আরও এসেছে, ‘যে ব্যক্তির সামনে কোনো মুমিনকে অপমান করা হয়, অথচ তাকে সহায়তা করার ক্ষমতা উক্ত ব্যক্তির থাকা সত্ত্বেও সে তাকে যদি সাহায্য না করে, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করবেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৫৯৮৫, আলমুজামুল কাবির লিততাবারানি: ৫৫৫৪)
উল্লেখ্য, ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রকে বেছে নেওয়া এবং ভোটযুদ্ধে জয়লাভের জন্য তাওহিদের মূল শিক্ষা ও চেতনা ভুলে বিদআতপূর্ণ কাজে ডুবে থাকা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েজ।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শরিয়তের সকল নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুধাবনের তাওফিক দান করুন। মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

