বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কারবালা দিবস: ইসলামে মাতম বলতে কিছু নেই

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৩, ০১:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

কারবালা দিবস: ইসলামে মাতম বলতে কিছু নেই

মহররম মাসের ১০ তারিখকে আরবিতে আশুরা বলা হয়। কারবালার নির্মম ঘটনাও এই দিনে ঘটেছিল। তাই মহররম এলেই আশুরার আমল নামে কিছু নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড ও কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়ে কিছু মানুষ। হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের স্মরণ করে মাতম-বিলাপ শুরু করে এবং নিজ দেহে চাবুকের আঘাত ও ছুরিকাঘাত করে। এটি গর্হিত আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘শোকে বিহ্বল হয়ে যে ব্যক্তি গাল চাপড়ায়, কাপড় ছেঁড়ে ও জাহেলি যুগের মতো আচরণ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ বুখারি: ১২৯৭)

রাসুলুল্লাহ (স.) আরও ইরশাদ করেছেন, আমার সাথে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক নেই, যে মাথা কেশ ছিন্ন করে, উচ্চস্বরে বিলাপ করে ও জামা ছিঁড়ে ফেলে। (সহিহ মুসলিম: ১০৪, ইবনে মাজাহ: ১৫৮৬, নাসায়ি: ১৮৬৩, মুসনাদে আহমদ: ১৯৬১৭)


বিজ্ঞাপন


আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসুল (স.) বিলাপকারিণীকে এবং তা শ্রবণকারীকে অভিসম্পাত করেছেন। (মুসনাদে আহমদ: ১১৬২২, আবু দাউদ: ৩১২৮, সুনানে সগির লিলবায়হাকি: ১১৪২)

হজরত উম্মে আতিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের বাইয়াত গ্রহণকালে এ অঙ্গিকার নিয়েছেন যে, আমরা যেন মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চসরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রন্দন না করি। (সহিহ বুখারি: ১৩০৬, ১২৪৪)

এই দিনকে কেন্দ্র করে আরো অনেক বিদআতমূলক কাজেরও প্রচলন হয়েছে। যেমন- কালো পতাকা উত্তোলন, রাত জাগা, দুলদুল কবর ইত্যাদির আকৃতি বানানো, সাজসজ্জা ও আরাম-আয়েশ ত্যাগ করা, মর্সিয়া করা, পুঁথি পাঠ করা, হালুয়া-রুটির হৈ-হুল্লোড় করা, শোকযাত্রা বের করা, আতশবাজি ও আলোকসজ্জা করা।

এসবের মধ্যে এমন কাজও রয়েছে, যেগুলোতে শিরকের আশঙ্কা থাকে। অতএব এসব কর্মকাণ্ড পরিত্যাগ করা ওয়াজিব। কেউ কেউ আশুরাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য কল্পিত ঘটনা ও বিশেষ বিশেষ পন্থায় ইবাদতের উপদেশ দিয়ে থাকেন—যা কোরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং তা-ও নিন্দনীয় ও বর্জনীয়।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: আশুরার দিনে সুন্নাহসমর্থিত ৩ আমল

প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) বলেন, ‘হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের দিনটিকে যদি মাতম বা শোক দিবসের জন্য এতই গুরুত্ব দেওয়া হতো, তবে সোমবার দিনটিকে আরো ঘটা করে শোক দিবস হিসেবে পালন করা বেশি বাঞ্ছনীয় ছিল। কারণ, এ দিন মহানবী মুহাম্মদ (স.) ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনেই নবীর পর শ্রেষ্ঠ মানব প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।’ (গুনিয়াতুত তালেবিন: ২/৩৮)

আল্লামা রুমি (রহ.) বলেন, ‘হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর শাহাদাতের কারণে রাফেজিদের মতো এ দিনটিকে মাতমের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া, বস্তুত দুনিয়ায় নিজেদের পুণ্যময় সব কাজ বিনাশ করার নামান্তর।’ (ফতোয়ায়ে রহিমিয়া: ২/৩৪১-৩৪২)

হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেন, ‘মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র কোরআনকে সাজিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা এবং তা মাথায় চড়িয়ে অলিগলিতে প্রদর্শন করা, তার নিচে গিয়ে মাথা লাগানো, চুমো খাওয়া, ঢাকঢোল পেটানো একেবারেই ভিত্তিহীন কাজ। এর দ্বারা সওয়াবের আশা করা একেবারেই বৃথা।’ (ইমদাদুল ফাতোয়ায়ে: ৫/৩৪৮)

আরও পড়ুন: আশুরার দিনে তাওবার গুরুত্ব

মারেফুল কোরআন রচয়িতা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন, ‘কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা মুসলমানের অন্তরকে সব সময় ব্যথিত করে। শুধু ১০ মহররমকে শোকের জন্য বেছে নেওয়া বোকামি বৈ কিছুই নয়।’ (ইমদাদুল মুফতিয়িন: ১/৯৬)

আল্লামা সুয়ুতি (রহ.) লিখেছেন, বিভিন্ন বিপদের দিনকে শোকের দিন বানানো ইসলাম সমর্থন করে না। এটি জাহেলি কাজ। শিয়া সম্প্রদায় আশুরার দিনে এসব করে এ দিনের মর্যাদাবান রোজা ছেড়ে দেয়। (হাকিকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদআতি, খণ্ড-১, পৃ. ১৪৮)।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক বিষয়ে সুন্নাহকে গুরুত্ব দেওয়ার, সত্য বলার, সত্য উপলব্ধি করার ও সত্যের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর