সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের প্রতিরোধ এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে তারা গঠন করেছেন ‘রিয়াদ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি।
সম্প্রতি রিয়াদের বাথা বাংলা বাজারে আয়োজিত এক সভায় নাসির উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং মোবারক হোসেন শাহীনকে সদস্যসচিব করে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে কয়েক শ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করছেন। তাঁদের শ্রম ও অবদানে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হচ্ছে। কিন্তু কিছু বাংলাদেশির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রবাসীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রিয়াদসহ সৌদি আরবের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বেড়েছে। পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের ব্যবহার করে ভিক্ষাবৃত্তি ও দেহব্যবসার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না গেলে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কর্মরত প্রবাসীদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, এসব অপরাধের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রবাসীদের অভিযোগ। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যে অপরাধে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে ধরে স্থানীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন প্রবাসীরা। তবে অপরাধ দমনে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
রিয়াদ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক ফারুক আহমেদ চাঁন, আব্দুল আল মামুন, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম সারোয়ার আপেল, মাসুদ রানা, ফকির আল আমিন, রুস্তম খান ও রুবেলসহ আরও অনেকে।
জেবি




