কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মরমি বাউল সম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসে এক স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে লালন শাহের জীবন, দর্শন ও অবদান নিয়ে ‘বাউল সম্রাট লালন শাহ অসাম্প্রদায়িক ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক মানবতাবাদী মরমি কবি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। এতে জাত-পাত ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া লালনের মানবতাবাদী দর্শন, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং বাংলার লোকসংস্কৃতিতে তাঁর অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খান। লালন দর্শনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন দূতাবাসের কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম। তাঁরা লালনের জীবনদর্শন, মানবপ্রেম এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে লালন শাহের জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করা হয়। লালনগীতি পরিবেশন করেন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইশতিয়াক, লেবার কাউন্সেলর মাশহুদুল কবির, নুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও লোকমান হোসেনসহ অন্য শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথিরা মুগ্ধ হন।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খান বলেন, লালন শাহ বাঙালির সম্প্রীতি ও মানবিকতার চিরায়ত ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। জাত-পাত ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন। তাঁর দর্শন আজও মানবতা, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাউল গানকে মানবজাতির মৌখিক ও অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি লালন শাহের দর্শন ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বিশ্বজনীন মর্যাদার প্রতিফলন।
দূতালয় প্রধান বারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে দূতাবাস এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
তিনি লালনের মানবতাবাদী দর্শন ধারণ করে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও আলোচকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার লালন শাহের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রতিনিধি/এএম




