বাগানে কাজ করার সময় মালয়েশিয়ায় বজ্রপাতে মো. হিরন মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত হিরন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের মনকাশাইর গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে। প্রায় তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় একটি বাগানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই রেমিট্যান্সযোদ্ধা।
হিরনের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার। ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মৃত হিরনের বড় ভাই মো. খোকন মিয়া জানান, জীবিকার তাগিদে ও ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় তিন বছর আগে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় যায় তার ভাই হিরন মিয়া। একটি কোম্পানির অধীনে বাগান শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। সোমবার বিকেলে বাগানে কাজ করার সময় হিরন বজ্রপাতে মারা যায়। পরে সহকর্মীরা তার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে জানায়। বর্তমানে তার লাশ দেশে আনার জন্য সহকর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। তার লাশ দেশে আনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন পরিবার।
খোকন মিয়া আরও জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে হিরন ছিল সবার ছোট। বিদেশ যাওয়ার আগে দেশে গাছ কাটার কাজ করত। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে ইকরাম হোসেন আমির দশম শ্রেণিতে, মেয়ে হিমু আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং রিমু আক্তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া জানান, হিরন অনেক ঋণ করে কষ্টের মধ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে নিহামনি নামে তার ছোট একটি মেয়ে মারা যায়। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটিতে শোকের ছায়া পড়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি লাশ দেশে আনার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




