সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সৌদিতে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদিতে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষাও করা হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করে। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দূতাবাস জানায়, কারখানাটির একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তিনি চুল কাটানোর জন্য সেলুনে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি কারখানায় আগুন জ্বলতে দেখতে পান।

Soudi_20260810_161004889
সৌদিতে আসবাবপত্র কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সেই দৃশ্য

হাবিবুরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে তাদের মধ্যে ১৬ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান।

স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে এবং অপর আটজন কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। নিহতরা কারখানার একটি অংশে বসবাস করতেন।

দূতাবাস জানায়, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের সবার পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে গেছে। এ কারণে মৃতদের পরিচয় শনাক্তে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট শিফা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয়সংক্রান্ত ডকুমেন্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রথমে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃতদের অনুকূলে মৃত্যু সনদ ইস্যু করবে। এরপর মৃতদেহগুলো সৌদি আরবে দাফন অথবা বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে নিহতদের পরিবারের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাস এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর