যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষিত অন্যতম এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটস বারার নির্বাহী মেয়র পদে আবারও বিজয়ী হয়েছেন লুৎফুর রহমান। তিনি প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন দলের মেয়রপ্রার্থীকে পরাজিত করেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, অ্যাসপায়ার পার্টির লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট, যা মোট ভোটের ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট, যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ১ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা গ্রিন পার্টির হিররা খান আদেওগুন পেয়েছেন ১৯ হাজার ২২৩ ভোট, যা মোট ভোটের ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।
এ ছাড়া রিফর্ম ইউকের জন বুলার্ড পেয়েছেন ৭ হাজার ১৫৩ ভোট। কনজারভেটিভ পার্টির ডমিনিক নোলান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৮ ভোট।
বিজ্ঞাপন
টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টসের জামি আলী পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৬ ভোট। লিবারেল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মোহাম্মদ হান্নান পেয়েছেন ২ হাজার ৪২১ ভোট।
ট্রেড ইউনিয়নিস্ট অ্যান্ড সোশ্যালিস্ট কোয়ালিশনের হুগো পিয়েরে পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী টেরেন্স ম্যাকগ্রেনেরা পেয়েছেন ৫২৪ ভোট।
বাংলাদেশের সিলেট জেলার বালাগঞ্জ (ওসমানীনগর) অঞ্চলের বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব লন্ডনের রাজনীতিতে সক্রিয়। আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি প্রথমে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে দলীয় বিরোধের জেরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ২০১০ সালে প্রথমবার টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হন।
পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর লুৎফুর রহমান বলেন, ‘টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষ আবারও আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে সহায়তা, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং সামাজিক সেবামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে আমরা কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভাজন ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিপরীতে মানুষ আশার রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে।’
নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিনিধি/এমআই




