মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ঢাকা

বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে যেসব দাবি জানাল তৃণমূল

মো. ইলিয়াস
প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২৩, ১১:২৫ এএম

শেয়ার করুন:

বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে যেসব দাবি জানাল তৃণমূল

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে বিএনপি। একই দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছে সমমনা দল ও জোট। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচিও পালন করেছে বিএনপি। এরপর সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দলীয় সমর্থক বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের সঙ্গে দশ ধাপে বৈঠক করছে দলটি। এসব বৈঠকে জনপ্রতিনিধিরা নানা অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তাদের মতামত, আন্দোলনের বিকল্প নেই। এলাকায় সবাই হামলা-মামলায় কোণঠাসা। এ থেকে রেহাই পেতে জোরালো সরকারবিরোধী কর্মসূচি চান তারা। সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি সফল করতে মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রংপুর বিভাগ, ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনা বিভাগ, ২৮ ফেব্রুয়ারি খুলনার বিভাগের একাংশ ও সিলেট বিভাগ, ১ মার্চ বরিশাল বিভাগ, ২ মার্চ ঢাকা বিভাগ, ৫ মার্চ কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ, ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগ, ১৫ মার্চ রাজশাহী বিভাগ এবং ১৬ মার্চ ময়মনসিংহ বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। ১০টি ধাপে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দলীয় সমর্থক বর্তমান ও সাবেক মোট ১৮৩৭ জন চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিএনপি। এরমধ্যে ২৩৮ চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখেন।


বিজ্ঞাপন


বিএনপি নেতারা জানান, মতবিনিময় করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা সবাই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন অথবা আছেন। তাদের সঙ্গে জনগণের একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের পরামর্শ ছিল- বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা। বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে কাজ করা। চলমান আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কঠোর কর্মসূচি দাবি করে তৃণমূল বিএনপির নেতারা বলেন, তৃণমূল সার্বিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত। আর বসে থাকার সময় নেই। সরকার হটাতে এখন চূড়ান্ত আন্দোলনে নামতে হবে। তবে তার আগে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল যেখানে কমিটি আহ্বায়ক, দুর্বল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে তা ভেঙে দিয়ে রাজপথের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে।

জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেন, জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তারা এবং দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হলে এই সরকার টিকতে পারবে না। তাই সরকারের কোনো ফাঁদে বিএনপিকে পা না দেওয়ার পরামর্শ দেন জনপ্রতিনিধিরা।

BNPসূত্র জানায়, সভায় মামলা-হামলা-গ্রেফতার ও হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ঢাকায় মামলা-হামলার শিকার হলে কেন্দ্র তাদের পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু তৃণমূলে মামলা-হামলার শিকার হলে তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের আরও দায়িত্বশীল হয়ে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনে জর্জরিত, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রতিষ্ঠান পরিবার বিপর্যস্ত। সরকারি দলের দমন-পীড়নে জীবন অতিষ্ঠ। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন হলেও ঢাকার ব্যর্থতার কারণে সে আন্দোলন চূড়ান্ত সফলতা পায়নি। তাই ঢাকায় আন্দোলন জমাতে হবে। বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি বিএনপিকে অতীতের অভিজ্ঞতায় শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আন্দোলনে সফলতা না পেলে বিএনপি এবং দেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।


বিজ্ঞাপন


বিএনপির হাইকমান্ডের উদ্দেশে সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, আপনারা ঢাকা অচল করে দিতে পারলে অতীতের মতো আগামীতেও আমরা তৃণমূল অচল করে দেব। আগামীতে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এমন নেতাদের এমপি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। যারা নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর রাখে না, শুধু নির্বাচন এলেই জনগণের পাশে যায়- এমন নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, মতবিনিময় সভায় জনপ্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। চলমান আন্দোলন নিয়ে কথা হয় এবং কিভাবে আন্দোলন আরও জোরালো করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। আন্দোলন ছাড়া এখন কোনো পথ নেই। জোরালো কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য বলা হয়। তৃণমূল আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত, যখন কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে তখন তৃণমূল যেকোনো মূল্যে তাদের কর্মসূচি সফল করবে। সিনিয়র নেতাদের দায়িত্বশীল হয়ে তৃণমূলের মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়। জনপ্রতিনিধিরা কঠোর আন্দোলনের দাবি জানান।

BNPতখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, মান-অভিমান ও দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। তৃণমূলের জনগণকে সংঘটিত করুন। যথাসময়ে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি আসবে। ঢাকায় সংগঠন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আরও শক্তিশালী করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ঢাকা মেইলকে বলেন, যারা বর্তমানে চেয়ারম্যান তারা হচ্ছেন তৃণমূলের প্রতিনিধি। যারা সাবেক ছিলেন তারাও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সার্বিক অবস্থা জানতে চেয়েছি। তারা বলেছেন, দেশ গণতন্ত্রহীন, এ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে- এটা তৃণমূল পর্যায়ের কেউ চায় না। এই সরকারকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি যেন নির্বাচনে না যায়। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন চায়। বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত যেকোনো কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করে তারা সফল করবেন বলে মত দিয়েছেন। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এই দাবি আদায় করা হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা আহ্বান জানানো হয়।

>> আরও পড়ুন: রমজানের আগে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকা মেইলকে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের পরামর্শ ছিল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকা। বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে দলবদ্ধভাবে কাজ করা। জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য রেখেছেন, তাদের চাওয়া-পাওয়া ও কষ্টের কথা হাইকমান্ডকে বলেছেন। বিস্তারিত শুনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত তৃণমূলের দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ চুকিয়ে ফেলার আহ্বান জানান।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের দলীয় যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তাদেরকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে তারা রাস্তায় থাকবেন। দেশের মানুষ যে মুক্তির আন্দোলনে নেমেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এমই/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর