দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়ান রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিএপিপি)-এর ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে সিউল ঘোষণা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন।
এবারের অধিবেশনে ৩৬টি দেশের ৮৩টি রাজনৈতিক দলের তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ইসমাইল জবিউল্লাহ। রাজধানী সিউলের হোটেল শিলা ডাইনেস্টি হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল জবিউল্লাহ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিএনপির প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সম্মেলনে মতপার্থক্য সত্ত্বেও পারস্পরিক আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্মেলনের শেষ প্ল্যানারি অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ছিলেন অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়া ১৯ জন প্রতিনিধির একজন। এর আগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত দুটি প্ল্যানারি সেশনে ৩১ জন প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। সম্মেলনের প্রথম প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন বিএনপির ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং দ্বিতীয় সেশনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সেলিম।
সিউল ঘোষণায় আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়। এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে আইসিএপিপির ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনের ফাঁকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আইসিএপিপির চেয়ারম্যান চুং জং-সেক, মহাসচিব ওহ সং, ভাইস চেয়ারম্যান মুশাহিদ হুসেইন সৈয়দসহ দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে সিউলের শিলা হোটেলে সম্মেলন উপলক্ষে এক জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদের স্পিকার চো জং-সিকসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আইসিএপিপি কাজ করে আসছে।
জেবি




