ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিত নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই লড়াই আপনাদের একার নয়; আমরাও পাশে আছি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে ‘ভারতের তরুণদের প্রতি সংহতি বিবৃতি’ শিরোনামে একটি বক্তব্য প্রকাশ করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক নাহিদ ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ভারতের নির্বাচনী জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার তরুণদের প্রতি তাদের দৃঢ় সংহতি রয়েছে।
নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের সংগঠক ও সাংবাদিকদের সাম্প্রতিক আটকের পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেন নাহিদ। তার মতে, এসব পদক্ষেপ মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি। সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে যেসব উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। ব্যারিকেড কিংবা সেন্সরশিপ দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা তাদের একসূত্রে বেঁধেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশও প্রত্যক্ষ করেছে।
বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভারতীয় নাগরিক সমাজের একটি অংশের সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ওই সময়ে ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া সংহতিকে তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিবৃতিতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নাহিদ। তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা কোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্য এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত- উভয় দেশেই কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান।
নাহিদ ইসলামের মতে, ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণির ভেদাভেদ অতিক্রম করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে। যে সমাজে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, ভিন্নমত প্রকাশ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের অধিকার নির্ধারিত হয়, সেই সমাজকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক বলা যায় না।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি আন্দোলনের সংগঠকদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে, তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার কারণে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। সাংবাদিকেরা যাতে ভয়ভীতি কিংবা সরঞ্জাম জব্দের শিকার না হয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলোও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন নাহিদ। তার ভাষ্য, দুই দেশের সংগ্রাম পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পানি বণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত বিষয়ও এই সম্পর্কের অংশ।
ভারতের গণতন্ত্রপন্থী জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ঢাকা থেকে এবং জুলাই প্রজন্মের অপূর্ণ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে তারা ভারতীয় আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরস্পরের সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।




