মিরপুরের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা কেড়ে নেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে মুখোশধারীদের হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এমপি আরমান বলেন, ‘প্রায় পাঁচ দশক ধরে কেন্দ্রটি মিরপুরের দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। রাতের আঁধারে শত শত মুখোশধারীর হামলা নিছক সন্ত্রাস নয়, এটি শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত।’
তিনি বলেন, ‘হামলায় নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি লুট করা হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বুকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা লজ্জাজনক ও ভয়ের।’
ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আড়াইশো মানুষ ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙল, অথচ কেউ কিছু টের পেল না? এর পেছনে কারা, কাদের ছত্রছায়ায় এবং কোন দখলবাজির স্বার্থে এই তাণ্ডব চালানো হলো, তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। দখলবাজ যে-ই হোক, যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।’
বিবৃতিতে ঢাকা-১৪ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, হামলার ও লুটপাটের বিষয়টি সংসদে তুলবেন তিনি। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার কথাও জানান তিনি।
হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন এমপি আরমান।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িত ও নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার, লুট হওয়া টিকা ও নথি উদ্ধার, বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু, স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ এবং জমি দখলের চেষ্টা প্রতিহত করা।
এ ছাড়া ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
টিএই/এএম




