র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, র্যাবের মতোই আরেকটি বাহিনী গঠনের পক্ষে নয় বিরোধীদল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, র্যাব বিলুপ্তির দাবি ছিল সকলের। দেশে-বিদেশে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কথা বলেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বারবার র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কারও ছিল না।
তিনি বলেন, এই বিল জাতীয় জীবনের অন্য ১০টি বিলের মতো নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিল। র্যাব প্রতিষ্ঠার পর এই জাতির সামগ্রিক অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। বাহিনীটির কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক দিক এত বেশি ছিল যে তা গোটা বিশ্বকে চিন্তিত করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই হাউসে আমি বিশ্বাস করি, র্যাবের হাতে ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন, আমি নিজেও। তবে আমি তো বেঁচে আছি। কিন্তু করুণভাবে জীবন দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন কিংবা গুমের শিকার হয়ে কোথায় আছেন, কেউ জানে না।’
গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গুমের শিকার হয়ে ফিরে এসে তার সম্মানিত সহকর্মী মীর আহমদ বিন কাসেম আজ সংসদ সদস্য হিসেবে এখানে রয়েছেন। সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের স্বামীর প্রসঙ্গও তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন-প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যাবলিতে সরকারি বিলটি স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বিবেচনার জন্য তোলা হয়। এ সময় বিলটির ওপর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এর আগে বুধবার বিলটি নিয়ে বিরোধী দল সাতটি আপত্তি জানিয়েছিল। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
টিএই/এআর




