শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

রাত পোহালেই লংমার্চ, ব্যাপক প্রস্তুতি ১১ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

রাত পোহালেই লংমার্চ, ব্যাপক প্রস্তুতি ১১ দলের
লংমার্চ সফর করতে ব্যাপক প্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত

ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দীর্ঘ এই কর্মসূচি। লংমার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে জোটভুক্ত দলগুলো।

লংমার্চকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মঞ্চ ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি কর্মসূচিতে দেশবাসীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হবে। সকাল ৮টার মধ্যে সেখান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা করবে। লংমার্চে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা নেতৃত্ব দেবেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উৎখাতের জন্য এ কর্মসূচি নয়। সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং লংমার্চও শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।

আরও পড়ুন

লংমার্চে বাধা দিলে প্রতিহতের ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের

তিনি সরকারের প্রতি লংমার্চে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃহৎ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থা ধরে রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।

এক হাজার গাড়িতে চট্টগ্রাম অভিমুখে

লংমার্চে শুরুতে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে তা কমিয়ে প্রায় এক হাজার গাড়ি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি।

JAMAT2

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে গাড়িবহর সড়কের একটি লাইন ধরে চলবে, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয় এবং কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে না পড়ে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে জমায়েত ও উদ্বোধনী বক্তব্যের পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে সমাবেশ ও খাবারের বিরতি হবে।

বেলা ৩টার দিকে ফেনীর মহিপাল এবং বিকেল ৫টার দিকে মিরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। এরপর রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছে লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লংমার্চে কোনো ধরনের হামলা বা বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক, লংমার্চ ঠেকানো যাবে না এবং জনগণই সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের কেউ যেন হামলা করে তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

লংমার্চের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটকে ‘কৃত্রিম’ আখ্যা ১১ দলের

তবে লংমার্চে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যাতে না বাড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে এনসিপি।

রাজধানী ও চট্টগ্রামে প্রচার-প্রস্তুতি

লংমার্চ সফল করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার গোলাপ শাহ মাজার মসজিদ থেকে গুলিস্তান এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। একই দিন কাওরান বাজার, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকাতেও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।

jAMAT3

চট্টগ্রামেও লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।

আরও পড়ুন

আইজিপির সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক, লংমার্চে সহযোগিতার আশ্বাস

লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আবু জাফর কাসেমীসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

লংমার্চের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রংপুর, খুলনা ও সিলেট অভিমুখে আরও তিনটি লংমার্চ এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর