সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

লংমার্চের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটকে ‘কৃত্রিম’ আখ্যা ১১ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

লংমার্চের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটকে ‘কৃত্রিম’ আখ্যা ১১ দলের
মতবিনিময় সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা

বিরোধীদলের আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটকে ‘কৃত্রিম’ বলে দাবি করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। লংমার্চের দিন কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি, বালুর ট্রাক বা খালি ট্রাক দিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা এসব কথা বলেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। এটি কৃত্রিম যানজট। লংমার্চের দিন যদি কোনো প্রকার কৃত্রিম যানজট কিংবা বালুর ট্রাক কিংবা খালি ট্রাক দিয়ে লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে তা প্রতিহত করা হবে। এটি সরকারের জন্য ভালো হবে না।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি আমলা, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করবে বলে তারা আশা করছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং জনদুর্ভোগ, বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাস সংকট সমাধানে সরকার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কটু ভাষায় কথা বলা হচ্ছে এবং সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা আশা করছি গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে বিরোধীদলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি লংমার্চে সরকার কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করবে না। একই সঙ্গে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার, সরকারদলীয় শীর্ষ নেতা ও সরকারি আমলাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।

লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, সন্ত্রাসী হামলা, ভয়ভীতি দেখানো বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা প্রমাণ করবে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের আলোকে আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশকে সরকার ধারণ করে না।

মতবিনিময় সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে সব বাধা অতিক্রম করে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে পৌঁছাবেন তারা। জনগণের অধিকার আদায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তারা জনগণের কাছে যাচ্ছেন বলেও জানান নেতারা।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া অনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর