শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নতুন আয়নাঘর কোথায়? মিরাজ শেখ নিখোঁজে প্রশ্ন জেডিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

নতুন আয়নাঘর কোথায়? মিরাজ শেখ নিখোঁজে প্রশ্ন জেডিপির
রাজু ভাস্কর্যের সামনে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) প্রতিবাদ সভা

বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা মিরাজ শেখকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। 

‘নতুন করে কোথায় আয়নাঘর গড়ে তোলা হয়েছে?’— এমন প্রশ্ন তুলে দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, ‘কোনোভাবেই বাংলাদেশে আবার গুমের সংস্কৃতি ফিরতে দেওয়া হবে না।’

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘মিরাজ শেখ নিখোঁজের ১৪০ দিনে জিজ্ঞাসা—নতুন আয়নাঘর কোথায়?’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় এই দাবি জানায় জেডিপি।

জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর একজন নাগরিকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা মিরাজ শেখকে গুম করেনি। তাহলে মিরাজ শেখ কোথায়— এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে খুঁজে বের করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘মিরাজ শেখ গত ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে গেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেও মিরাজকে কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব সংগঠন ঘটনাটিকে বিএনপি সরকারের আমলের প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোস্টগার্ড মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।’

নাঈম আহমাদ বলেন, ‘অবিলম্বে এই ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে এবং মিরাজ শেখকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করার জন্য হাইকোর্ট ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১২ জুলাই দেওয়া ওই আদেশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়। কিন্তু এরপরও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাহলে কি তাঁকে নতুন কোনো আয়নাঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে? সেই আয়নাঘর কোথায়?’

নাঈম আহমাদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমরা প্রত্যাশা করছি, তিনি অবিলম্বে মিরাজ শেখকে সুস্থভাবে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন এবং তাঁর অধীনস্থ বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন। যদি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তাঁর বিচার করা হোক। আর যদি মিরাজ শেখ বেঁচে না থাকেন, তাহলেও তাঁর পরিবার ও দেশবাসীকে সত্যটি জানানো হোক। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি কাম্য নয়।’

মিরাজ শেখের পরিবারের ওপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মর্মান্তিক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম আহমাদ।

তিনি বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, মিরাজ শেখের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালনের জের ধরে তাঁর স্ত্রী, মা ও বোনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রচণ্ড মারধর করে। পরে তাঁদের আটক করা হয়। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় মিরাজের স্ত্রী, মা ও বোনকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁরা প্রায় ২৭ দিন কারাগারে ছিলেন।’

মিরাজ শেখের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে দলটি বলেছে, তাঁর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এরই অংশ হিসেবে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, জুলাইয়ের আন্দোলনের সংগঠন, বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাক্টিভিস্টদের গুমের ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জেডিপি।

প্রতিবাদ সভায় জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনি ইহসান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামান, যুগ্ম সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার আইমান আন্দালিব, মানিষা আক্তার শ্রুতি, মো. মুহিব্বুল্লাহ, আরিফুল হক চৌধুরী, কেফায়তুল্লাহ আল মাহাদী, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ, যুগ্ম সদস্যসচিব মানিক সরকার ও হাসমাইন হাওলাদার ইফরাত প্রমুখ।

এমআর/এএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর