রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভাই নাকি মেয়ে—কে ধরছেন মির্জা ফখরুলের আসনে বিএনপির হাল?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

শেয়ার করুন:

ভাই নাকি মেয়ে—কে ধরছেন মির্জা ফখরুলের আসনে বিএনপির হাল?
মির্জা ফখরুল, তাঁর ভাই ও মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথের পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি ঠাকুরগাঁও-১ আসন। রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন শিগগিরই আসনটিতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তবে তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির এই ঘাঁটিতে শুরু হয়েছে নতুন কাণ্ডারি খোঁজার হিসাব-নিকাশ।

আলোচনার কেন্দ্রে এখন মূলত দুজন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন এবং তাঁর বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা। পরিবারের উত্তরাধিকার ধরে রাখতে শেষ পর্যন্ত ভাই নাকি মেয়েকে বেছে নেবে বিএনপি- এ প্রশ্নেই এখন সরগরম স্থানীয় রাজনীতি।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর মতামতও বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে দলীয় নেতাদের অনেকে মনে করছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে মির্জা পরিবারের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সদর, ভুল্লি ও রুহিয়া নিয়ে গঠিত এই আসনে মির্জা ফখরুলের বাবা প্রয়াত মির্জা রুহুল আমিনও সংসদ সদস্য ছিলেন।

আইনজীবী মির্জা রুহুল আমিন পাকিস্তান প্রাদেশিক আইনসভার দুইবার সদস্য ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে মির্জা ফখরুলও ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিবের দায়িত্ব পান। গত ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান তিনি। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে এখন বঙ্গভবনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ফলে তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে কে আসছেন, সেটি শুধু একটি উপনির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নয়; বরং মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার প্রশ্ন হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন

পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা মির্জা ফয়সাল আমিন বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সরাসরি যোগাযোগই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে পরীক্ষিত প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

তাদের যুক্তি, উপনির্বাচনে এমন একজন প্রার্থী প্রয়োজন, যিনি দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামোকে সক্রিয় করতে পারবেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখতে পারবেন। সেই বিবেচনায় ফয়সাল আমিন এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা।

Fakhrul22
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত

তবে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় রাজনীতির নানা ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। ফলে দলীয় মনোনয়ন পেতে তার সামনে যেমন সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বড় শক্তি, তেমনি স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় না থাকলেও মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে শামারুহ মির্জার নামও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় না থাকলেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

আরও পড়ুন

শ্বশুর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও যে কারণে ‘হতাশ’ ফাহাম আবদুস সালাম

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, বিশেষ করে করোনাকালে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তায় তার ভূমিকা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করেছে। নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আছে। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাবা মির্জা ফখরুলের হয়ে এলাকা চষে বেরিয়েছেন তিনি।

ফলে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, শামারুহকে প্রার্থী করা হলে এটি হবে তুলনামূলকভাবে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত। শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা।

দলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তফসিল প্রকাশের পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর