বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমার কষ্ট লেখার মতো কেউ নেই; যদি মারুফ কামাল না লেখেন।’
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক মারুফ কামাল খানের লেখা ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে অতিথিদের বক্তব্য শোনার পর অনুষ্ঠানের শেষদিকে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন নজরুল ইসলাম খান।
এ সময় কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘চাপা ফুল’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিদায়ের প্রাক্কালে প্রস্ফুটিত হওয়া চাপা ফুলের কষ্ট ধারণ করে কবি লিখেছিলেন—আমারে ফুটিতে হলো বসন্তের অন্তিম নিশ্বাসে। দুই-আড়াই ঘণ্টা বসে সবার শেষে আপনাদের সামনে আমাকে দাঁড়াতে হয়েছে। আমার কষ্ট আর কেউ লেখার মতো নেই; যদি মারুফ কামাল না লেখে।’
তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়াকে কষ্ট হিসেবে না দেখে আনন্দ ও গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অপেক্ষা ছিল আনন্দের, এই অপেক্ষা এক ধরনের গৌরবেরও।’
‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অনেক রাজনীতিক আছেন, যাদের আমরা ভুলে যেতে বসেছি। অথচ বাংলাদেশের রাজনীতি পুনর্গঠন ও রাজনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট অবদান ছিল। একটা একটা করে নাম বললে অনেক নাম হয়ে যাবে। আপনারা বইটা পড়েন।’
তিনি বলেন, ‘যাদের ভুলে যাওয়া হয়েছিল কিংবা যাদের ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল, মারুফ কামাল খান একজন লেখক হিসেবে তাদের সামনে নিয়ে এসেছেন।’
মারুফ কামাল খানের লেখার প্রশংসা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি অনুসন্ধিৎসু একজন মানুষ। ইতিহাসবিদ তো নন, কিন্তু ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে। এটা শুধু সাংবাদিকতার অনুসন্ধিৎসুতা নয়; একজন সাংবাদিক ও সচেতন রাজনৈতিক কর্মীর অনুভূতির সমন্বয় থেকেই এই কাজটি হয়েছে।’
তার ধারণা, বইটি দীর্ঘদিন পাঠকের কাছে মূল্যবান হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এই বই কালোত্তীর্ণ হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বইটি পড়ার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এর মধ্যে বোঝার এবং শেখার বিষয় আছে। বেশ কিছু তথ্য আমি পড়েছি, যেগুলো আগে নিজেও জানতাম না।’
বইয়ে উঠে আসা একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী সাহেব শাহবাগে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একজন উদীয়মান তরুণী অভিনেত্রী। সে সময় শেখ সাহেব সেখানে এসে বিষয়টি দেখে কষ্ট পেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন—নেতা না হয়ে অভিনেতা হলে বোধহয় ভালো হতো। তখন সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাকে বলেছিলেন, তুই আবার নেতা হইলি কবে?
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বইটি না পড়লে এ ধরনের আরও অনেক বিষয় জানা সম্ভব হবে না। আমরা সাধারণভাবে যাদের সম্পর্কে জানি, বইটিতে তাদের জীবনের অনেক অজানা দিক উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত, তাদের কথা বলার অনেক লোক আছে। কিন্তু যারা কোনো না কোনো কারণে কিছুটা নিন্দিত, মারুফ কামাল খানের বই পড়লে বোঝা যাবে, তাদের রাজনৈতিক জীবনেরও কিছু ভালো দিক তিনি তুলে ধরেছেন।’
বইয়ের আরেকটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওসমানী সাহেবের দুটি কুকুর ছিল—একটির নাম 'ফিল্ড মার্শাল', আরেকটির নাম 'ইন্দিরা'।
এর মধ্যে যে ব্যঙ্গ রয়েছে, সেটা অনুভব করার জন্য একটি চিন্তার জায়গা দরকার। পাকিস্তান আমলে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হওয়ার পরও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তার কী ধারণা ছিল, এই নামের মধ্যেই তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।’
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সাবেক তথ্য মন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করা আশিক ইসলাম, ‘সূচীপত্র’-এর প্রকাশক সাঈদ বারী ও আবিষ্কার প্রকাশক দেলোয়ার হাসান বক্তব্য দেন।
এম/এআরএম




