শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

তুখোড় ছাত্র নেতা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দুই নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

তুখোড় ছাত্র নেতা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দুই নেতা

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন চারজন। তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক দুই ছাত্র নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও আমান উল্লাহ আমান। 

এর মধ্যে রিজভী বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে আমান বর্তমানে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য। পাশাপাশি দলের উপদেষ্টার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।

এর বাইরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ দুই নেতা সম্পর্কে কতটাই বা জানে নতুন প্রজন্ম। কতটা ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং মামলা-হামলা সহ্য করে তারা আজকের অবস্থানে এসেছেন, তা অনেকের কাছে হয়তো কল্পনারও অতীত। চলুন জেনে নেওয়া যাক তাদের সম্পর্কে-

রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ এবং ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ নতুন ৪ মুখ

ছাত্রাবস্তায় উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তীকালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন রিজভী। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন রিজভী। দলের দুঃসময়ে তিনি ছিলেন অটল। বহু মামলা-হামলার সম্মুখিন হতে হয়েছে তাকে। গ্রেফতার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, বিএনপির প্রতিটা আন্দোলন সংগ্রামে থেকেছেন সামনের সারিতে।

দলের প্রতি রিজভীর এই অবদানের কারণেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর রিজভীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতায় আজ তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত করা হয়েছে।

আমান উল্লাহ আমান

সদ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া বিএনপির এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রদলের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। 

এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আমান এবং ১৯৯০–৯১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি নির্বাচিত হন। 

আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে কে এই ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম?

ছাত্ররাজনীতি থেকে দ্রুত জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এসে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আমান উল্লাহ আমান। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনি রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন এবং বিএনপি সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা ও কারাবরণসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন। 

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলনে আমানের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে বিএনপিতে তিনি একজন অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

কেরাণীগঞ্জকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আমান উল্লাহ আমানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে নিজ এলাকায় তার একটি শক্তিশালী গণভিত্তি তৈরি হয়েছে। 

ছাত্র নেতা থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্বশীল ও দীর্ঘ পথচলা আমান উল্লাহ আমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। তার মাঠের রাজনীতির অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব অনন্য। বিএনপির রাজনীতিতে কয়েক দশকের সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে তিনি দলের পুরনো ও পরীক্ষিত নেতাদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। 

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রিজভী ও আমানসহ চারজনকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য করার খবর জানানো হয়। অন্য দুজন হলেন- ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়া এই চার নেতা তাদের মেধা, বিচক্ষণতা ও সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিএনপি।

এএইচ  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর