বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ শনিবার। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বেলা ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। এতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় তার বড় ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছিলেন। দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুর আগে খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখেও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ছিল। হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত বছরের ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারক করেছিল। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়া
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্ম নেন খালেদা জিয়া। তাঁদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তৎকালীন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর খালেদা জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরের বছর বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান তিনি।
এরপর দেশের রাজনীতিতে তিনি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উঠে আসেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ার পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালের নির্বাচনের পরও তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
তার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম জন্মদিনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করছে।
এমআই




