বিএনপি মহাসচিবের ‘স্বীকারোক্তির জন্য’ তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব নিজেই স্বীকার করেছেন, ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পরও সরকার কোনো কিছুর পরিবর্তন করতে পারেনি। সবকিছু আগের মতোই চলছে। এমন স্বীকারোক্তির পর সরকারের উচিত ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেওয়া।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। ৩৬ জুলাইকে কেন্দ্র করে বিএনপির কোনো দলীয় কর্মসূচি নেই। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন যে, বিএনপি কেবল নির্বাচন আদায়ের জন্য সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। কারণ, সংস্কারের দাবিতে জনগণ আবার রাজপথে নামলে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, তারা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, মানুষ শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে। বৈষম্যহীন, কল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামোর প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। সংস্কার ইস্যুতে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান বিএনপিকেই করতে হবে। সংসদে সমাধান না হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্য রাজপথে এর ফয়সালা করবে।
সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি নেই।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই বিপ্লব আওয়ামী লীগকে সরিয়ে অন্য কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি; এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিনি সরকারের প্রতি দলীয়করণ পরিহার করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের পরও প্রশাসনে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা নিরপেক্ষ প্রশাসনের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই মানে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু দুই বছর পরেও জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং গণহত্যার বিচারও সম্পন্ন হয়নি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ড. মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।
টিএই/এফএ




