শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গাজী নজরুলকাণ্ডে দায়ী ইজ্জত উল্লাহর প্রশ্রয়!

মুহা. তারিক আবেদীন ইমন
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

গাজী নজরুলকাণ্ডে দায়ী ইজ্জত উল্লাহর প্রশ্রয়!
গাজী নজরুলকাণ্ডে চরম বিব্রত হতে হয় জামায়াতকে। ছবি: সংগৃহীত
  • জামায়াতে প্রথম বড় নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা
  • নজরুলের মনোনয়নে ইজ্জত উল্লাহর ভূমিকা
  • আগের অভিযোগ আমলে নেয়নি দল
  • তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণ হওয়ায় বহিষ্কার
  • ইসি ও স্পিকারকে আইনি পদক্ষেপের অনুরোধ
  • দ্রুত সিদ্ধান্তে প্রশংসা কুড়াচ্ছে জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আলোচিত নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে নৈতিকতা, আদর্শ ও শৃঙ্খলাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা দলটির ইতিহাসে এ ধরনের অভিযোগ খুব একটা নেই। এত বড় পরিসরে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা এর আগে জনসমক্ষে আসেনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় দলটির ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও অভিযোগ তদন্তের পর দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে জামায়াত। তবু ঘটনাটি দলটির জন্য একটি বড় ধরনের ইমেজ সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আগের থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সাতক্ষীরার বিষয়গুলো দেখভাল করতেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তাকে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। আসনটিতে প্রার্থী হিসেবে দেশের একজন শীর্ষ আলেমসহ বেশ কয়েকজন আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু ইজ্জত উল্লাহ সবকিছু উপেক্ষা করে গাজী নজরুলকেই প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করেন।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাছাইয়ের খেসারত হিসেবে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ইমেজ সংকটে পড়তে হলো জামায়াতকে। এর জন্য অনেকাংশে তারা অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর প্রশ্রয়কে দায়ী করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেছেন, আগে এমনটা জানলে তিনি এ ব্যাপারে সুপারিশ করতেন না।

Gazi2
গাজী নজরুলের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ও বিতর্কিত একটি নাম গাজী নজরুল ইসলাম। তার রাজনৈতিক জীবনে এসেছে নানা মোড়। তরুণ বয়সে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সশস্ত্র শাখা গণবাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৮ সালে তার রোকনিয়াত (সদস্য পদ) বাতিল করে জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তী সময়ে আবারও সদস্য পদ ফিরে পান। সম্প্রতি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় দলীয় তদন্ত চলাকালে তার পক্ষে অবস্থান ছিল এমপি ইজ্জত উল্লাহর।

তবে এ বিষয়ে ইজ্জত উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাকে এ ব্যাপারে আগে কেউ কিছু বলেনি। আমরা সংবাদপত্র এবং বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এর আগে আমরা কেউ এ বিষয়ে জানতাম না; কারণ ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে। ঘটনাটি এলাকায় ঘটলে আমরা জানতে পারতাম।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমি গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ এলাকার অঞ্চল পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। এরপর আমাকে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনা মহানগরী এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যদি কেউ এমন দাবি করে, তবে তাকেই জিজ্ঞাসা করুন। আমার তো কিছু মনে নেই। অভিযোগ করলে তো অবশ্যই জানতাম। বিষয়টি ঢাকায় ঘটার কারণে আমরা আগে জানতাম না।’

ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ‘এখন লোকজন ফেসবুকে নানা কথা বলছে। মানুষ তো ভুল করতেই পারে। মানুষ অপরাধ করে বলেই বিচারব্যবস্থা ও আদালত রয়েছে। এমনকি ইসলামের স্বর্ণযুগে বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও কোরআনের আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো মানুষের যুগেও মানুষ অপরাধ করেছে। এই ঘটনার পর নিজের প্রতি নিজের আস্থা হারিয়ে ফেলছি যে, মানুষ কখন কী ভুল করে বসে তার ঠিক নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলাম জাসদের সশস্ত্র শাখা গণবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র লুট এবং ১৯৭৪ সালে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামে এক পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি গণবাহিনী ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলটির প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন এবং সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন শ্যামনগর ও কালীগঞ্জে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখেন। গাজী নজরুল ইসলাম এমপি থাকাকালে ভূমি দখল, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ঘটনা জানার পর থেকেই আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছি। এবং আপনারা দেখছেন, আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি, স্পিকারকে চিঠি দিয়েছি। এখন আইনি বিষয়গুলো সরকারের হাতে। আমাদের হাতে কিছু নেই। আমরা যা করার তা করেছি।’ তবে ইজ্জত উল্লাহর প্রশ্রয়ের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।

আরও পড়ুন

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত?

গাজীর ভিডিওকাণ্ড: কপাল খুলছে কি বিএনপির, না পরওয়ার-শিশির মনিরের

গত ২১ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থকরা এটি ‘এআই ব্যবহার করে করা হয়েছে’ দাবি করে পাল্টা প্রচারণা চালায়। তবে কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে, ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়।

এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফেসবুকে নিজের আইডিতে একটি বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। পোস্টে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

তবে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। একই চিঠি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সৃষ্ট আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

Nazrul2
বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলকে সংসদেরও বাইরে রাখতে চায় জামায়াত। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৮ জুলাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স না পেলে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার নেই।

জামায়াতের রাজনীতিতে এটাই প্রথম বড় ধরনের কেনো নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেরপুর-১ আসনের এমপি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, অপরাধ ও অন্যায়ের প্রশ্নে জামায়াত কখনো কাউকে ছাড় দেয় না, প্রয়োজনে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আমিরও হন।

আরও পড়ুন

কোন সমীকরণে সংসদে টিকে থাকছেন গাজী নজরুল?

এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করল জামায়াত

জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, সংসদীয় দলের কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নেননি। বরং সবাই চেয়েছেন তাকে বহিষ্কার করা হোক। তা না হলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দলকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। ওই সংসদ সদস্য বলেন, গাজী নজরুল পদত্যাগ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে হয়তো তিনি কয়েক মাস বা এমনকি প্রায় এক বছর পর্যন্ত এমপি পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদে বসতে পারবেন না।

জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, বৈধ কাজ হয় প্রকাশ্যে, আর অনৈতিক কাজ হয় গোপনে। ওনার এই বিয়েটাকে আপনারা সুন্নত বলে চালিয়ে দিচ্ছেন! একটি বিবাহে একজন নারী ও একজন পুরুষের চুক্তিতে যা যা থাকে, পতিতালয়েও একই কাজ হয়, সেখানেও অর্থের লেনদেন ঘটে। তবে পতিতালয়ের কাজ হারাম, আর বিবাহ হলো সুন্নত, যা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি হিন্দুরাও ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে করে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, আপনাকে কোনো সুন্নত বা ভালো কাজ গোপনে করার এখতিয়ার কে দিয়েছে? কোন হাদিস বা সুন্নাহ আপনাকে এই শিক্ষা দিয়েছে? নিজের পদ-মর্যাদার অজুহাতে অনৈতিক কাজকে সুন্নত বলে চালিয়ে দিতে চান! ৫৮ বছরের বয়সের ব্যবধানে গোপনে একটা মেয়েকে বিয়ে করবেন, আবার সেটাকে সুন্নত বলবেন- এটা কেমন কথা? ইসলামে তো বৈধ কাজ প্রকাশ্যে করার বিধান। যা গোপনে করেছেন, সেটাকে আবার কেউ কেউ কীভাবে যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছে! আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।

নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে স্বেচ্ছায় এমপি পদ থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত দলকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করবেন না- এমন অবস্থানও তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে জামায়াত তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরাতে সব ধরনের চেষ্টা করবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

টিএই/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর