ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং ধর্ষণ-নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখা।
রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রদলের নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাত হোসেন।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, ‘ইসলামের আদর্শের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমের কোনো মিল নেই। তাদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডই তা প্রমাণ করেছে। যে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে, তিনি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা এ তথ্য অনেকেই আগে জানতেন না। একটি অপরাধ সংঘটনের পর দলটির নেতারাই তার পরিচয় প্রকাশ করেন। পরে দেখা যায়, তিনি অপহরণের শিকার হননি; বরং আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও সামনে এসেছে।’
পিয়াল হাসান বলেন, ‘জামায়াত-শিবির যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয় এবং নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা না করে, তাহলে তাদের নানা অপকর্ম দেশের মানুষের সামনে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা হলে ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে এবং গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।’
বিজ্ঞাপন
সদস্য সচিব মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘গুম একটি জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। অতীতে বহু ছাত্রদল নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। তাই এ ধরনের বিষয়কে রাজনৈতিক নাটক বা কৌতুকের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ছাত্রশিবির গুমের ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।’
মিল্লাত বলেন, ‘ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ছাত্রসংগঠন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়া হবে।’
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোয়াইব আহমেদ সজীব বলেন, ‘গুপ্ত নেতাদের অপকর্মের পাহারাদার হিসেবে ইসলামের লেবাসধারী যে সংগঠনটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে তা এদেশের ছাত্রসমাজকে নিয়ে রুখে দিবে ছাত্রদল।’
সমাবেশে বক্তারা কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পরে তাকে লাকসাম থেকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হননি; বরং স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন ইমন, আবির রায়হান, মামুনুর রহমান, আনিসুর রহমান আনিস ও জিয়াউর রহমান খন্দকার, আহ্বায়ক সদস্য নাজমুল হুসাইন আদর, দেওয়ান ফজলে হাসান নিয়ন, আনোয়ার হোসেন প্রিন্সসহ শাখা ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এম/ক.ম




