বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

জনগণের পকেট কাটতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: এবি পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জনগণের পকেট কাটতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: এবি পার্টি

বিদ্যুতের মূল্য ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতারা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের খেসারত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের জনগণ যখন লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, শিল্প খাতের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে দিশেহারা, তখন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়ার সামিল।

তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ এখন শুধু একটি সেবা নয়; কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপাদান। ফলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মানেই উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, যা শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়িয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

এবি পার্টির দুই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, জনগণের ঘাড়ে বারবার মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, লুটপাট ও নীতিগত ব্যর্থতার দায় এড়ানো সম্ভব নয়। বছরের পর বছর ভুল পরিকল্পনা, অস্বচ্ছ চুক্তি, অতিরিক্ত সক্ষমতার নামে জনগণের অর্থ অপচয় এবং জবাবদিহিতার অভাবে বিদ্যুৎ খাতকে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই ব্যর্থতার মূল্য সাধারণ জনগণকে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, একটি কল্যাণমুখী ও জনবান্ধব রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান জনগণের পকেট কেটে নয়, বরং অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধের মাধ্যমে করা হয়। কিন্তু সরকার জনগণের জীবনমান রক্ষার পরিবর্তে তাদের ওপর বারবার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি আরও দুর্বল হবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সব চুক্তি, ব্যয় ও ভর্তুকি ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতি ও অপচয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর