ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সোমবার (২৫ মে) সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিজ্ঞপ্তিতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ হলের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের তিন নেতা ও এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন তার জুনিয়র এবং একজন ব্যাচমেট বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন— জগন্নাথ হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস, চন্দন দাস, রিপন এবং কর্মী সাগর। ঘটনার পর অভিযুক্তদের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদল।
যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, এ হামলা শুধু একজন শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা নয়; এটি ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি, গেস্টরুম সংস্কৃতি ও সন্ত্রাসভিত্তিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত। হামলার পর দলীয় পরিচয় প্রকাশ না করতে ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, হলকেন্দ্রিক দখলদারিত্ব ও ভিন্নমত দমনের রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই পুরোনো প্রবণতা আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও দাবি করেন শিবির নেতারা।
বিজ্ঞাপন
তারা অভিযোগ করেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা অভিযুক্তদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনাও করা হয় বিবৃতিতে।
ছাত্রশিবির নেতারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, জগন্নাথ হলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আহত শিক্ষার্থীর যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা বলেন, এ ঘটনার বিচার বাধাগ্রস্ত হলে ক্যাম্পাসে আরও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এম/এফএ




