বাংলার ইতিহাসে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়কে শুধু সামরিক অভিযান হিসেবে নয়, বরং নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রাম হিসেবেও মূল্যায়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
বুধবার (১৩ মে) ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়ের ৮২২তম দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবিজয় ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিজয়। সেন শাসনের সামাজিক বৈষম্য, বর্ণবাদী কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে এটি ছিল ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।’
নাঈম আহমাদ বলেন, ‘লক্ষণ সেনের আমলে সমাজে চরম বৈষম্য ও অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নিম্নবর্ণ ও সাধারণ মানুষ নানাভাবে বঞ্চনার শিকার ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সেই বাস্তবতায় বখতিয়ার খিলজির আগমন নিপীড়িত মানুষের কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে ওঠে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে জনগণের আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। বঙ্গবিজয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বঙ্গবিজয়ের পর বাংলায় মুসলিম শাসনের বিস্তারের মাধ্যমে নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারার সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে বাংলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ইসলাম গ্রহণে প্রভাব ফেলেছিল। নাঈম আহমাদ বলেন, আজকের বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ার পেছনে বঙ্গবিজয়ের ঐতিহাসিক প্রভাব রয়েছে। মুসলিম শাসন, সুফি সাধকদের দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সামাজিক সমতার বার্তা বাংলার মানুষের মধ্যে গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছিল।
ইতিহাসকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তথ্য, দলিল ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ইতিহাসচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের সামাজিক অবস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে যেসব পরিবর্তন বিস্তৃত করেছে, সেগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এমআর/এমআই




