বিশ্ব শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দীর্ঘ দেড় যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় শ্রমিক সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শুক্রবার (১ মে) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতা-কর্মীরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতাম। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৭ বছরে এমন ভীতি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে আমাদের শ্রমিকদের পদে পদে বঞ্চিত করা হয়েছে। স্বৈরাচার সরকারের আমলে এত বড় শ্রমিক সমাবেশ অসম্ভব ছিল।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘নানা আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আবারও তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ দেশে এত বড় একটি শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমান সরকার জনগণের জন্য যতটুকু কাজ করছে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের সব অধিকার নিয়ে কাজ করবে ইনশাল্লাহ।’
ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানা শ্রমিকদলের সাবেক আহ্বায়ক আলী কায়সার পিন্টু বলেন, ‘আমরা শ্রমিক নেতা হয়েও বাসায় ঘুমাতে পারিনি। গভীর রাতে ঘর থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেত। শ্রমিক সমাবেশ দূরে থাক, শ্রমিকদের নিয়ে একসঙ্গে এ দিনটিতে বসতে পারিনি। আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য, গার্মেন্টস, গাড়ি-সব কেড়ে নিয়েছে। শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো রোজগার কেড়ে নিয়েছিল স্বৈরাচার সরকার।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় পর আমরা আবার একটি শ্রমিক সমাবেশে নয়াপল্টন কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পেরেছি। সরকারের মাত্র দুই মাস বয়সে এত বড় একটি শ্রমিক সমাবেশ প্রশংসার দাবিদার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ঘটবে।’
বিজ্ঞাপন
এয়ারপোর্ট থানা শ্রমিকদলের এয়ারপোর্ট ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমরা শ্রমিকদলের নাম মুখে উল্লেখ করতে পারতাম না। নাম বললেই কারাগারে নিয়ে যেত। গত ১৭ বছর এমন নৃশংস অত্যাচার-নিপীড়ন করা হয়েছে যে শ্রমিকদের নিয়ে সমাবেশ করা দূরে থাক, কয়েকজন মিলে এক জায়গায় বসে চা খাওয়া সম্ভব ছিল না।’
আরও পড়ুন: কানায় কানায় পূর্ণ নয়াপল্টন
‘দীর্ঘ দেড় যুগ পর আমরা আবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একসঙ্গে সমবেত হয়েছি। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তারেক রহমানের বিকল্প নেই। প্রতিটি শ্রমিকের দুঃখ-দুর্দশা একমাত্র তিনিই উপলব্ধি করতে পারেন।’
সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হন। তাদের একটাই চাওয়া, সরকার প্রধান বিশ্ব শ্রমিক দিবসে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দেবেন।
এসকেএস/এমআই



