শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রাজনীতিতে ফিরতে চাওয়া আ.লীগের জন্য বড় ‘দুঃসংবাদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

awamileague
নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ২০ মাস ধরে দেশের রাজনীতিতে অনেকটা অনুপস্থিত আওয়ামী লীগ। টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটি চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আর সেভাবে রাজনীতিতে ফিরতে পারেনি। দলটির সিংহভাগ নেতা বিদেশে কিংবা কারাগারে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কার্যত আওয়ামী লীগ কোথাও নেই। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দলটি রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে বলে একটা ধারণা ছিল অনেকের। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আশা করছিলেন রাজনৈতিক সরকার তাদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেবে।

তবে দলটির জন্য বড় দুঃসংবাদ- অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ আরও বেশি চাপে পড়বে। ফলে দলটির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ আরও জটিল হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।  


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

আ.লীগের বিভিন্ন কার্যালয় খোলার চেষ্টা, নেপথ্যে কী?

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।

League02
এখনো পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এর অন্যতম হলো– ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।


বিজ্ঞাপন


অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না। এবার বিএনপি সরকার সেখানে শাস্তির বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে। তবে শাস্তির পরিমাণ কী হবে তা এখনো জানা যায়নি। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য আইনের ১৬ ধারায় যেসব সাজার বিধান রয়েছে, সেগুলোই প্রযোজ্য হতে পারে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

এবারের ঈদেও ছন্নছাড়া আওয়ামী লীগ, তৃণমূলে হতাশা

আওয়ামী লীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ থাইল্যান্ডে চলে গেছেন-এমন খবরে গত বছরের মে মাসের শুরুতে জুলাই আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল এনসিপির নেতাকর্মীরা। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।

১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। 

League4
৫ আগস্টের পর ব্যাপক জনরোষের শিকার হয় আওয়ামী লীগ। ছবি: সংগৃহীত

তবে ওই আন্দোলনে ছিল না বিএনপি। দলটি শুরু থেকেই বলে আসছে, নির্বাহী আদেশে কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে তারা নন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর বিএনপি তা মেনে নিয়েছিল এবং জানিয়েছিল তারা অখুশি নয়। তবে এবার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সেই অধ্যাদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি এতে নতুন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নিলো।

আরও পড়ুন

অস্তিত্ব সংকটে আওয়ামী লীগ: আল-জাজিরা

এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অনেকটা ছন্নছাড়া অবস্থায় দিন যাপন করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের ভয়ে কোণঠাসা এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দলটির নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সময় রাজনীতিতে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েও আওয়ামী লীগ তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এমনকি বিভিন্ন কর্মসূচি দিলেও রাজপথে তাদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এই অবস্থায় গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও কার্যত আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের ভোট বিএনপির বাক্সে যায়। মূলত জামায়াত-এনসিপিকে ঠেকাতে বিএনপিকে মন্দের ভালো হিসেবে গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ। দলটির কোনো কোনো নেতার কথায় সেটা প্রকাশ পায়।

আওয়ামী লীগের ধারণা ছিল, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও বিএনপি তাদেরকে রাজনীতিতে স্পেস দেবে। অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বিএনপিকে তারা নিরাপদও মনে করছে। বিএনপির বিরোধী বলয় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগও তুলেছে দলটির ওপর। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ছাড় না দিয়ে উল্টো তাদের রাজনীতিতে ফেরার পথ আরও কঠিন করে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর