মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

‘নির্বাচনের পরও হলে থাকিস’ বলেই ছাত্রদল হামলা করেছে, অভিযোগ শিবিরের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘নির্বাচনের পরও হলে থাকিস’ বলেই ছাত্রদল হামলা করেছে, অভিযোগ শিবিরের
‘নির্বাচনের পরও হলে থাকিস’ বলেই ছাত্রদল হামলা করেছে, অভিযোগ শিবিরের

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এসময় ‘নির্বাচনের পরে তোরা এখনও হলে থাকিস’ বলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করছে ছাত্রশিবির। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।


বিজ্ঞাপন


বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ‘নির্বাচনের পরে তোরা এখনও হলে থাকিস’ এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ছাত্রদল রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে এ হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও রামদা নিয়ে পরিচালিত এ হামলায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে পুনরায় দখলদারিত্ব ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই এই রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন সুস্থ ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির প্রত্যাশা করছে, তখন ছাত্রদল তাদের পুরোনো নেতিবাচক ও দখলদারির চরিত্রে ফিরে এসেছে। নির্বাচনের পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের পর থেকেই সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়েছে তারা।


বিজ্ঞাপন


একদিকে সারা দেশে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ ও অব্যাহত জননিপীড়নে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পুনরায় ছাত্রলীগীয় কায়দায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে সশস্ত্র হামলা ও হল দখলের নোংরা মহড়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন বরাবরের মতোই নিস্পৃহ ও আজ্ঞাবহ দাসের ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতারা বলেন, ভয় দেখিয়ে বা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে ছাত্রশিবিরকে শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। ছাত্রশিবির সবসময় ইতিবাচক ও ছাত্রবান্ধব রাজনীতির চর্চা করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অগ্রসৈনিক হিসেবে কাজ করে যাবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা হল দখলের খায়েশ মেটাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবন বলি হতে দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

তারা আরও বলেন, আদর্শিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে যারা অস্ত্রের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। শিক্ষার্থীদের দোয়া ও ভালোবাসাই তাদের মূল শক্তি, যা কোনো পেশিশক্তির কাছে মাথানত করবে না।

বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। প্রশাসনকে সতর্ক করে বলা হয়, অপরাধীদের রক্ষার পুরোনো চাটুকারিতা পরিহার না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

টিএই/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর