বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতেন দলের নেতারা। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের কার্যক্রম বেশিরভাগ পরিচালিত হয় গুলশান কেন্দ্রিক। অন্যদিকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বেশিরভাগ সময় নয়াপল্টন কেন্দ্রিক থাকলেও মাঝে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় নয়াপল্টন অনেকটা নীরব হয়ে যায়।
তবে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনের সরগরম দফতরটি নিরবতা ভেঙে আবার সরব হয়ে উঠে। সকাল থেকেই সেখানে নেতাকর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি ছিলো। কারণ বেলা ১১টায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনের পর প্রথমবার তিনি কার্যালয়ে আসলে কর্মী-সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানায়।
বিএনপি মহাসচিব নয়াপল্টনে এসে পৌঁছালে প্রধান ফটকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। পরে বিএনপি মহাসচিব তিন তলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন।
সেখানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহসভাপতি তপন কুমার মজুমদারসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান।
বিজ্ঞাপন
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি প্রায় নেতা-কর্মী শূন্য ছিলো, অলস সময় কেটেছে অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সোমবার সকাল থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। অফিস কর্মীরা আনন্দ-উৎফুল্ল, সাজ-গোছ করা হয় ব্রিফিং কক্ষ।
বিএনপি দফতরের কর্মকর্তা রেজাউল করীম বলেন, ‘মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার আসবেন সেজন্য সকাল থেকে আমরা রেডি ছিলাম। স্যার এসেছেন আমাদের ভালো লাগছে।
একজন অফিস কর্মী বলেন, ‘গত ছয়টি দিন একেবারের ফাঁকা ছিলো, নেতা-কর্মী কেউ সেভাবে আসেনি। আমাদের কাজ-কর্ম ছিলো না। আজকে অনেকে আসছেন, স্লোগান দিচ্ছেন, গম গম করছে অফিস।’
পল্টনে মহানগর বিএনপির কর্মী আবদুল হালিম বলেন, ‘মহাসচিব আসবেন জেনে সকাল ১০টায় পার্টি অফিসে এসেছি। সঙ্গে আরও কয়েকজন এসেছে। গত কয়েকদিন ছিলো বিএনপি অফিসটা একেবারে নিরব। লোকজন সেভাবে দেখিনি। আজকে এসে মনে হচ্ছে অফিস প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিন তলায় নিজের চেম্বারে বসেন। চেম্বারে বসে বিএনপি মহাসচিব দফতরের সহ সম্পাদকদের নিয়মিত অফিস করার নির্দেশ করেন।
আরও পড়ুন: ‘হাসনাত কই, লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে’
তিনি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ কর্মের খোঁজ-খবর নেন এবং সকলকে নিয়মিত অফিসে থাকার বলেন।
তিনি তাদের বলেন, ‘আপনারা নিয়মিত অফিস করবেন, কোনো কাজ ফেলে রাখা যাবে না। নেতা-কর্মীরা দূর দূরান্ত থেকে আসলে তাকে সহযোগিতা করবেন। এটাতে যেন কোনো শিথিলতা না হয়।’
নয়া পল্টনের অফিসে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থানের পর বিএনপি মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সচিবালয়ে উদ্দেশ্যে অফিস ত্যাগ করেন।
বিইউ/এমআই

