এবারের নির্বাচনে চরম বিপর্যয় ঘটেছে এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দল জাতীয় পার্টির। টানা তিন মেয়াদ কথিত বিরোধী দলের আসনে বসা দলটি এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি। এমনকি ভোটের হারে এক শতাংশ ভোটও পায়নি দলটি। যদিও দেড় শতাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনে কে কত শতাংশ ভোট পেয়েছে এর প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে দেখা যায় জাতীয় পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার এক শতাংশেরও কম। দলটি ভোট পেয়েছে ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অনেক ছোট দলও এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। এমনকি এক বছর বয়সী দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) জাতীয় পার্টির তিন গুণ ভোট পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইসির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ভোট পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় জাতীয় পার্টি। সারাদেশে দলটি একটি আসনও পায়নি। এমনকি দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ অধিকাংশ প্রার্থী মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই আসতে পারেননি।
আরও পড়ুন
খাতাই খুলতে পারেনি জাতীয় পার্টি
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিগত শতাব্দীর আশির দশকে ক্ষমতার মসনদে বসে জাতীয় পার্টি নামে দলটি গঠন করেন। নব্বইয়ে পতনের আগ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল। এমনকি ক্ষমতা হারানোর পরও জাতীয় পার্টি তৃতীয় বৃহৎ দল হিসেবে পরিগণিত হতো। প্রতিটি নির্বাচনেই দলটির শক্তিশালী অবস্থান ছিল জাতীয় সংসদে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলকে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে গণ্য করা হতো। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো দলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসতেন।
বিজ্ঞাপন
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসে। সেই জোটে জাতীয় পার্টিও ছিল। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মুখে একতরফা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হয়ে যায় প্রধান বিরোধী দল। এরপর থেকে টানা তিন মেয়াদে দলটি সংসদে বিরোধী দল হিসেবে গণ্য হয়। তবে জনসাধারণের মধ্যে দলটি সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে দলটিকে আখ্যায়িত করে দেশবাসী। ফলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর চরম সংকটে দলটি।
এবারের নির্বাচনে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি যেন অংশ নিতে না পারে এ ব্যাপারে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দাবি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু ফলাফলে ফুটে উঠে দলটির ক্ষয়ে যাওয়া অবস্থার চিত্র। বিশেষ করে বারবার ভাঙনের মুখে পড়া এবং ক্ষমতার ভাগ-ভাটোয়ারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করায় জাতীয় পার্টি আজ অস্তিত্ব সংকটে।
জেবি

